শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবসে চাঁদপুর জেলা ক‌্যা‌বের সভা ও র‍্যালি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০২৩, ৫:০০ পিএম
বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবসে চাঁদপুর জেলা ক‌্যা‌বের সভা ও র‍্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপল‌ক্ষ্যে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চাঁদপুর জেলা শাখার উ‌দ্যো‌গে ১৫ মার্চ বুধবার সকাল সা‌ড়ে ৯টায় শহ‌রের শপথ চত্ত্ব‌রে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনু‌ষ্ঠিত হ‌য় । এ বারের প্রতিপাদ্য ” নিরাপদ জ্বালানি, ভোক্তাবান্ধব পৃথিবী “

এ সময় বক্তারা বলেন আপনারা সবাই জানেন সমাজে সকলেই আমরা ভোক্তা। আমরা আমাদের নিজেদের টাকা খরচ করে ঔষধ বাসের লঞ্চ স্টিমার অভিমানের টিকেটসহ সকল দ্রব্য এবং চিকিৎসা সেবা পেতে হয়।

এসব ক্ষেত্রে আমরা নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছি প্রতারণা থেকে ক্রেতাভোক্তাদের অধিকার রক্ষা করার জন্যই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন পাস করা হয়েছে। কোনরকম যৌক্তিক কারণ ছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানো যাবে না। মুরগী, মাছ, মাংস ও ডিমসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।পাইকারি ও খুচরা মূল্য তালিকা প্রকাশ্যে টানতে হবে। পচা বাঁশিও ভেজাল খাবার বিক্রি করা যাবে না।ইফতার সামগ্রী সহ সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্য ঢেকে রাখতে হবে এবং খাদ্যদ্রব্যে বিষাক্ত রং মেশানো যাবেনা বিক্রয়ের সময় পাকা রশির ক্রেতাকে দিতে হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সকলকে সাশ্রয়ী হতে হবে। প্রত্যেক দোকানে ওজনের ক্ষেত্রে মেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।

চাঁদপুর জেলা ক্যাবের সিনিয়র সভাপতি মোস্তফা রুহুল আনোয়ার এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা মার্কেটিং অফিসার কামরুজ্জামান, গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্বাস উদ্দীন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা জাকির, সনাক চাঁদপুরের সভাপতি ডাঃ পিযুষ কান্তি বড়ুয়া, চাঁদপুর চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক গোপাল শাহা, ক্যাব চাঁদপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লাহ খান, ক্যাব চাঁদপুর জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ বিল্পব সরকার, চাঁদপুর জেলা ড্রাগ এণ্ড ক্যামিসাট এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি কবির হোসেন, হিডো পরিচালক সালাহ উদ্দীন প্রমুখ।

Model Hospital

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি হাজী নুরুল আলম লালু, দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেন বেপারী, ক্যাব চাঁদপুর জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান, জেলা ক্যাব সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, জেলা ক্যাব সদস্য সমাজসেবক সাজু, দৈনিক প্রিয় চাঁদপুরের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নূর মোহাম্মদ খান, পাঠক সংবাদ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ও দৈনিক প্রিয় চাঁদপুর পত্রিকার বার্তা সম্পাদক আারিফুল ইসলাম শান্ত, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক শাওন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ ফটো জোনালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য নির্বাচিত সহ-সভাপতি এস এম সোহেল, সদস্য বাদলমজুদার,মানিক দাস প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’