শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে চর কমিটির বিরোধে দু’শতাধীক কৃষক সুবিধা বঞ্চিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০২৩, ১১:০৫ এম
ফরিদগঞ্জে চর কমিটির বিরোধে দু’শতাধীক কৃষক সুবিধা বঞ্চিত

এস.এম ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার মীরপুর চরেরর কমিটি নিয়ে বিরোধে প্রায় দু‘ শতাধীক কৃষক চর ইজাড়া দিতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তাছাড়া চলতি মৌসুমে বোর ধান চাষাবাদের বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। অপরদিকে পৌর মেয়রের নিকট সুষ্ঠু সমাধানের জন্য কৃষক ও কমিটির লোকজন গিয়ে ভোগান্তির মাত্রা আরোও বেড়েছে।

এ বিষয়ে কৃষক ও থানায় অভিযোগকারী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা মো. জাকির হোসেন বেপারী, আঃ রশিদ, বেলায়েত, ইব্রাহীম, আবদুল্লাহ আল মামুনসহ অনেকেই জানান, মাও. মহিবউল্যাহ চর কমিটির সভাপতি হওয়ার পর দায়ীত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় পৌর সভায় শুধুমাত্র মহিবউল্যাহর বিরুদ্ধে জাকির হোসেন বেপরী অভিযোগ করেছে। সে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক সভাপতি মোঃ মোশারর্ফ হোসেন রুনু, জাকির হোসেন ও আব্বাস উদ্দিন মেয়রের নিকট গিয়ে সমস্যার সমাধান চাইলে মেয়র তদন্ত সাপেক্ষে আনোয়ার হোসেন খোকনকে সভাপতি করে একটি কমিটি ঘোষনা দেয়। এতে সমস্যা সমাধান না হওয়ায় রুনু, কামাল মিজিসহ মেয়রকে সভাপতি প্রস্তাব দিলে মেয়র দায়ীত্ব নিতে সম্মত হননি।

পরিশেষে মেয়র চর ইজাড়ার জন্য ০৬ মার্চ মিরপুর স্কুল মাঠে মিটিং ডাকে মিটিংএ ডাককারী প্রতিযোগী না থাকায় পুন:রায় বৃহস্পতিবার আরেকটি তারিখ নির্ধারণ করেন। এমন পরিস্থিতিতে মেয়র মহোদয়ের সম্মান ক্ষুন্ন করায়। আমি প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।

জাকির হোসেন আরোও জানান, কৃষকের সার্থে মেয়র সুষ্ঠু সমাধান দিয়ে গিয়েছে, সেখানে একটি চক্র ওঁনার সম্মান নষ্ট করায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

Model Hospital

এ বিষয়ে চর কমিটির সাবেক সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন রুনু জানায়, আমরা মাও. মহিবুল্যাহর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে মেয়রের নিকট গিয়েছি। তাছাড়া কৃষদের মতামতের ভিক্তিতে একটি সুন্দর কমিটি গঠন ও চর পরিচালনা সুষ্ঠু ভাবে হবে সে লক্ষ্যে মেয়রের সহযোগীতা চেয়েছি। সে মোতাবেক কাজ না হওয়ায় কৃষকরা মিটিংএ উপস্থিত হয়নি। এখানে মেয়রের সম্মান ক্ষুন্নতো কেউ করেনি। বর্তমানে আমি চরের ধান চাষে পানি নিষ্কাশনসহ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। তবে কমিটি জটিলতায় মাছ চাষের জন্য চরটি ইজাড়া বিলম্বিত হচ্ছে। তাছাড়া প্রায় দু‘শতাধীক কৃষক ও জমির মালিক তাদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা এর একটি সুষ্ঠু সমাধান চাই।

এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই জামাল উদ্দিন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষকে ডেকে সমাধানের কথা বললে প্রতিপক্ষ থানায় অথবা এলাকায় বসতে চায়। মেয়র মহোদেয়ের কার্যালয়ে বসতে রাজি হচ্ছে না। ১৭ মার্চ শুক্রবার বসার কথা থাকলেও প্রতিপক্ষের লোকজন পৌরসভায় উপস্থিত হয়নি। তারপরেও সমাধানের পক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মান্নান জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি।

এ বিষয়ে পৌর সভার মেয়র বীর মুক্তিযুদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী জানান, একটি কুচক্রী মহল সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করে দির্ঘদিন এ চরের কৃষকদের সুবিধা বঞ্চিত করে রেখেছে। আমি এ চক্র থেকে সাধারণ কৃষকদের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছি। তিনি আরোও জানান, একটি চক্র সকল সময়েই ভালো কাজের বিঘ্নতা সৃষ্টি করতে চায়। এদের কোন ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সকলের শান্তিপূর্ন সহাবস্থানের মধ্যদিয়েই একটি সুষ্টু সমাধান দেওয়া হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’