শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার চুরান্ত প্রস্তুতির যৌথ  সভা সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ৬:৫৭ এম
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার চুরান্ত প্রস্তুতির যৌথ  সভা সম্পন্ন

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার চুরান্ত প্রস্তুতির যৌথ সভায় সভাপতির বক্তব্যে রাখেন মেলার স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধা এম এ ওয়াদুদ।

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা গৌরবের ৩০ বছর পূর্তি, স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তী ও মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর উপলক্ষ্যে এ বছরের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা। মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনায় চুড়ান্ত প্রস্তুতির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল ৪ ডিসেম্বর শনিবার বিকাল ৪ টায় চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামের বিজয় মেলার মঞ্চের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।

বিজয় মেলার চেয়ারম্যান অ্যাডঃ বদিউজ্জামান কিরণের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব হারুন আল রশিদের সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন বিজয় মেলার স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধা এম এ ওয়াদুদ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আব্দুল হামিদ মাস্টার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তি। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছি তারা কোনো মানুষ কে ঘর থেকে ধরে এনে হত্যা করিনি। আমরা হত্যা করছি শত্রুদেরকে। বিজয় মেলার লক্ষ্য উদ্দ্যেশ্য হলো স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস প্রজন্ম‌কে জানানো। ভুটান ও নেপাল আমাদেরকে স্বাধীনতার স্বিকৃতি দিয় প্রথম। পরবর্তিতে ভারত সরকার ইন্দিরা গান্ধী  আমাদের সহায়তা করেছে। আমাদের প্রায় ১ কোটি শরনার্থিদের তারা আশ্রয় দিয়েছে। যুদ্ধে তারা সেনা সদস্য দিয়ে সহায়তা করেছে। রাশিয়া, জার্মান আমাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২ লাখ বিরঙ্গনা নারী। তারা স্বাধীনতার অবদান রেখেছেন।স্বাধীনতার সময়  মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব জেক্স ফোর্স গঠন করানহয়। আমরা তাকে খাটো করে দেখিনা। এমন সময় অর্থাৎ কুয়াশাছন্ন পরিবেশে আমাতের দেশ স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। তেমনি আজকের সেই পরিবেশ পরিলক্ষিত হচ্ছে।আমি যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধা। যার শরীরে গুলি লেগেছে সে বুঝেছে গুলির মজা কি, ডিসেম্বর মাস আসলেই প্রজম্ম জানতে চায় বিজয় মেলা কবে হবে।সেই জন্য বিজয় মেলার আয়োজন। আমরা শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপির উপস্থিতিতে বিজয় মেলার উদ্ধোধন করবো। ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর হানাদার মুক্তিদিবসে বিজয় মেলা শুরু করা হবে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দোকান ছিল ১৬৮ টি। সাইজ ছিল ৫৬ ফিট। এ মাঠ নতুন হিসাবে স্টল করেছি ১১০ টি। সাইজ করা হয়েছে ১০ ফিট। করোনা কালে শিল্পীদেরকে বিজয় মেলার পক্ষ থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা দিয়ে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। আমরা ২৯ বছর ধরে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিজয় মেলা করে এসেছি।এ বছর বিজয় মঞ্চে স্বাধীতার সুবর্নজয়ন্তী ও মুজিব জম্মশতবার্ষিকী  উপলক্ষ্যে ৪২ টি সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ গ্রহন করবে।যানজট নিরসনে বহুদিন ধরে বিজয় মেলা স্হানান্তরে বিষয়টি বলা হচ্ছে। সেই জন্য চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে করা হচ্ছে। তাই এটি প্রচার করা প্রয়োজন। তাই সকলকে আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।  ১৯৯২ সালে যুব ইউনিয় ও ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধা সংসদের সহযোগিতায় প্রথম বিজয় মেলা শুরু হয়েছে। এত সুন্দর ভাবে গুছানো মেলার আয়োজন সম্ভব হয় হারুন আল রশিদের মতো মানুষ থাকার কারণে।এম এ ওয়াদুদ ভাই একা নয়। তিনি যে ভাবে বিজয় মেলার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আব্দুল হামিদ মাস্টার একজন মুক্তিযুদ্ধা তিনি, জাতিয়তাবাদী দল করতে পারেন, তবে তিনি স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেন। স্বাধীনতার জন্য কারো অনুমতি লাগেনা। মনের তাগিদে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আর বিজয় মেলা করতে গিয়ে জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগবে না, একথা সাবেক জেলা প্রশাসক গোলাম কিবরিয়াকে বলেছিলাম। সে বছর ও আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা করেছি।স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তী এ গৌরব আমাদের সবার। এ বছর বিজয় মেলায় স্মৃতিচারণ করবেন গোলাম কুদ্দুস, ইকবাল সোবহান, মনোরঞ্জন ধর চাঁদপুরে আসবেন। ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর মুক্তদিবস।

Model Hospital

এ দিবসেই চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদ্ধোধন করা হবে।আমরা সকলের মতামতের ভিত্তিতে বিজয় মেলার কার্যক্রম করে যাব। আমরা বিজয় মেলার মাধ্যমে আমাদের প্রজম্মকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ইতিহাস শিক্ষা দিতে পারি তাহলেই আমাদের স্বার্থকতা। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর আমরা ভর করে বিজয় মেলা শুরু হয়নি। চাঁদপুরের বিজয় মেলা আছে, থাকবে। এ মেলা চলবে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন শুনে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিলাম। আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময় জয় বাংলা শ্লোগান দিয়েছি। কোনো হত্যাকেই অস্বিকার করা ঠিকনা। ইতিহাস ইতিহাসের জায়গায় রাখা প্রয়োজন। আমরা এদেশের ৯৫ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগ করেছি। সাংস্কৃতিক কর্মীরা সব সময় স্বাধীনতার কথা বলে তাদের অনুষ্ঠান করে থাকে।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, বিজয় মেলার চেয়ারম্যান অ্যাডঃ বদিউজ্জামান কিরণ, উপদেষ্টা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, আব্দুল হামিদ মাস্টার, ডেপুটি কমান্ডার ইয়াকুব আলী মাস্টার, সাবেক মহাসচিব ও স্টিয়ারিং কমিটির সহ সভাপতি অ্যাডঃ বিনয় ভূষণ মজুমদার, সদস্য শহিদ পাটোয়ারীর , ভাইস চেয়ারম্যান অজিত সাহা, অ্যাডঃ মজিবুর রহমান ভূইয়া, তাফাজ্জল হোসেন পাটোয়ারী এসডু, যুগ্ম মহাসচিব  অ্যাডঃ  সাইয়েদুল ইসলাম বাবু, রহিম বাদশা, সাংস্কৃতিক পরিষদের আহ্বায়ক তপন সরকার, নাট্য পরিষদের সদস্য সচিব এম আর ইসলাম বাবু।

আরো উপস্থিত ছিলেন মেলার কর্মকর্তা  মহসিন  পাঠান, আবুল কালাম চিশতী, সোহেল রুশদী, গিয়াসউদ্দিন মিলন, এএইচএম আহসান উল্লাহ, শরিফ চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান সুমন, প্যানেল মেয়র অ্যাডঃ হেলাল হোসাইন, মির্জা জাকির, সোহেল রুশদি, নাট্য পরিষদের আহ্বায়ক গোবিন্দ মণ্ডল, ‌মাঠ ও ম‌ঞ্চের সদস‌্য স‌চিব মা‌নিক দাস, মি‌ডিয়া ক‌মি‌টির স‌চিব কে এম মাসুদ, স্মৃ‌তি সংরক্ষণ প‌রিষ‌দের  আহবায়ক ম‌নির হো‌সেন মান্না, সদস‌্য স‌চিব অ‌ভি‌জিত রায়সহ আরো অনেকে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’