শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রোজগারের একমাত্র সম্বল ছিল শাহরাস্তির শহিদুলের দোকানটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৩, ৮:৪৬ এম
রোজগারের একমাত্র সম্বল ছিল শাহরাস্তির শহিদুলের দোকানটি

বঙ্গবাজারের শার্টের দোকান ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম মজুমদার। ৩২ বছর ধরে তিলে তিলে গড়েছিলেন শার্টের পাইকারী দোকান। এর আয় দিয়ে চলত পরিবার। বলা যায় রোজগারের একমাত্র সম্বল ছিল দোকানটি। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরের আগুনে এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল সবকিছু। শহিদুলের বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায়।

শহিদুল জানান, সকাল সাড়ে ৬টায় খবর পাই বঙ্গবাজার মার্কেটে আগুন লেগেছে। শনিরআখড়া থেকে দ্রত চলে আসি। এসে দেখি পুরো মার্কেট জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিস পানি দিচ্ছে। কোনো কিছুতেই নিভছিল না আগুন। আমার তিনটি দোকানসহ পুরো মার্কেট জ্বলে ছাই হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, চেয়ে দেখে আহাজারি করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। তবে আশায় ছিলাম হয়ত বেঁচে যাবে এনেক্সকো টাওয়ার। সেখানে আমার একটি দোকান ও দুটি গোডাউন রয়েছে। কিন্তু সেই এনেক্সকো টাওয়ারও এখন জ্বলছে।

সকাল পৌনে ১০টায় সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ভেতরে স্ত্রী-পরিবারসহ বসে আহাজারি করতে দেখা যায় এই ব্যবসায়ীকে।

Model Hospital

চাঁদপুরের শাহরাস্তি থেকে শহিদুল ইসলাম মজুমদারের ফুলবাড়িয়া বঙ্গবাজার মার্কেটে ব্যবসায় হাতেখড়ি ১৯৯১ সালে। গত ৩২ বছরে পুঁজি বাড়িয়ে গড়েছেন চারটি দোকান। চার দোকানের মালামাল রাখার জন্য এনেক্সকো টাওয়ারে নিয়েছেন দুটি গোডাউন।

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ভেতরে তিনি বলেন, ফুলবাড়িয়ার বঙ্গবাজারে বঙ্গ, আদর্শ, মহানগরী ও গুলিস্তান—এই চারটি মার্কেট পাশাপাশি। সবগুলোই পুড়ে গেছে। এনেক্সকো টাওয়ারটা বাকি ছিল সেটাও জ্বলছে।

শহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদুল ফিতরের কেনাকাটাই সারা বছরের রোজগারের বড় উপলক্ষ্য। ঈদ উপলক্ষ্যে চারটা দোকানসহ ও গোডাউনে প্রায় আট কোটি টাকার মালামাল তুলেছিলাম।

কপালে হাত দিয়ে এ ব্যবসায়ী বলেন, ৩২ বছরের সাজানো গোছানো দোকান, রোজগার সব এক আগুনেই শেষ। জানি না সামনে কি দিন অপেক্ষা করছে। আল্লাহ সহায় হোক।

পাশে স্ত্রীর কান্না আর আজাহারিতে ভারি হয়ে উঠেছে চার পাশ। তিনি বলেন, এত দিনের সাধনা, ঈদের কেনাকাটা, ব্যবসা এভাবে বিনষ্ট হবে, এভাবে পথে বসে যেতে হবে ভাবি নাই। আল্লাহ তুমি এটা কি করলা।

এদিকে, বঙ্গবাজারে লাগা আগুন এখনো বাড়ছে। ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিট। ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মার্কেটের চার দিক থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে বাতাসের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। বঙ্গবাজার মার্কেটে লাগা আগুন পাশের এনেক্সকো টাওয়ারেও ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনের কারণে ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ছেয়ে গেছে বঙ্গবাজারের আকাশ। ভয়াবহ এ আগুনের কারণে প্রচণ্ড তাপ অনুভূত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আগুনের তীব্রতা বাড়ছে।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। আর ৬টা ১২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া হতাহতের কোনো খবরও পাওয়া যায়নি।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন উপজেলা বিএনপি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন উপজেলা বিএনপি
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এসময় তাঁরা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ সহায়তা ও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় উপজেলা এবং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সমবেদনা জানিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও মতলব পৌরসভার সাবেক মেয়র এনামুল হক বাদল। খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. শহীদ মিয়াজীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি সোয়েব আহমেদ সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাগর, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এএসএম বদরুদ্দোজা দুলাল পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সুলতান কাজী প্রমুখ।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল হক জহির, যুগ্ম আহ্বায়ক মিরান হোসেন মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম জিলানী তালুকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর মিয়াজী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাবের ছিদ্দিকি, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মিরাজ মাহমুদ জিসানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গেল মাসের ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।