সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, এক দিনে আটক ৩৭০

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
চাঁদপুর জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, এক দিনে আটক ৩৭০

চাঁদপুর জেলার সব থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। গতকাল শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মোট ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।

চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশনা এবং চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় জেলার সব থানা ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিশোর গ্যাং, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর যাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অভিভাবকদের ডেকে সন্তানের বিষয়ে খোঁজখবর রাখা, নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী করা এবং অপরাধ থেকে দূরে রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

Model Hospital

চাঁদপুর জেলা পুলিশ বলছে, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঠেকাতে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

কার আশ্রয় আর প্রশ্রয়ে মামলা থাকার পরেও গ্রেফতার হচ্ছেনা রাব্বি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৫ পিএম
কার আশ্রয় আর প্রশ্রয়ে মামলা থাকার পরেও গ্রেফতার হচ্ছেনা রাব্বি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের মোল্লাডহর গ্রামে ২০২১ সালের ৩১ মার্চ রাতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে তর্ক-বিতর্ককে কেন্দ্র করে বাড়ী ফেরার পথে মোল্লাডহর গ্রামের বেপরী বাড়ীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী, তৎকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী রাহেম আলীর ছেলে রাব্বি (২০), মৃত কালা মিয়ার ছেলে মো. রাহেম আলী (৪০), আলী মিয়ার ছেলে মো. শাখাওয়াত হোসেন (২৮), মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে সুমন (৩৫), সাফায়েত মিয়ার ছেলে শেখ ফরিদ (৩৫)সহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন মিলে রাতের অন্ধকারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একই গ্রামের হাজী জবেদ উল্যার ছেলে আলমগীর সরদার (৩২), ওসমান মিয়ার ছেলে মো. সাদেক মিয়া (৩৫), আবুল কালামের ছেলে ওমর ফারুক (২০) এর উপর হামলা দেশীয় অস্ত্র চালায়।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আলমগীর সরদার ও ওমর ফারুক’কে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, সেখানে কয়েকজনের শারীরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পওে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২১ সালের ১ এপ্রিল মীর হোসেন প্রকাশ জাহাঙ্গীর আলম সরদার বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখ্য পূর্বক অজ্ঞাত নামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং জিআর ১০৮, তারিখ ১ এপ্রিল ২০২১।

আসামীরা সরকারের অনুসারী হওয়ায় ওই ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে পুলিশ মামলার ২নং আসামী শাখাওয়াত হোসেনকে আটক করে অপর আসামী সুমন ৩০/৫/২০২১ সালে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে বের হয়ে আসে।

Model Hospital

রাহেম আলী ৬নং বড়কুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমানের চাচা ও ও সন্ত্রাসী রাব্বি চাচাতো ভাই হওয়ায় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় তারা রাতের অন্ধকারে দুবাই চলে যায়। ৬ বছর পর সন্ত্রাসীরা আবারো দেশে ফিরে। পরবর্তী ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের সহযোগিতায় রাহেম আলী জামিনে আসে বলেন অভিযোগ করেন মামলার বাদী।

মামলার বাদী আরো জানান, কয়েক দিন পূর্বে সন্ত্রাসী রাব্বিও গোপনে দেশে এসেছে বলে জানাযায়। ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান তার জামিনের চেস্টা করছে বলে অভিযোগ করে বাদী। রাব্বি কখনো ঢাকা ও কখনো হাজীগঞ্জে এসে রাত্রি যাপন করছে। সন্ত্রাসী রাব্বিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান তিনি।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, রাব্বি যদি দেশে থাকে এবং তার বিরুদ্ধে যদি ওয়ারেন্ট থাকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে। এ জন্য বাদী পক্ষ আমাদের সহযোগিতা করতে হবে।

বাদী জাহাঙ্গীর আলম মীরু জানান, কেউ যদি হাজীগঞ্জ থানাকে সন্ত্রাসী রাব্বির সন্ধান দিতে পাওে তাকে উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে।