শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

বঙ্গবাজারের আগুনে চাঁদপুরের শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৩, ৮:২৫ এম
বঙ্গবাজারের আগুনে চাঁদপুরের শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত
ঢাকা বঙ্গবাজার আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকান ও গোডাউন মিলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬ হাজার ছোট বড় ব্যবসায়ীর তালিকা উঠে আসে। তাদের মধ্যে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জের সীমান্তবর্তী পাঁচৈই, ভাউরপাড়, মনতলা, মানুরী ও ঘনিয়া গ্রামের একাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী রয়েছেন।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন মিডিয়ায় ক্ষতিগ্রস্তের আংশিক নামের তালিকা উঠে আসলেও নানা কারনে উঠে আসেনি তাদের নাম। এসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতির নির্ণয়ে পাশে এসে এখন পর্যন্ত কেউ দাড়ায়নি।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঁচৈই গ্রামের বাসিন্দা ও জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান হাজী জসিম উদ্দিন ও তার তিন ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের মহসিন উদ্দিন তুষারসহ তাদের তিন ভাইয়ের ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ৭ নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের সমেশপুর গ্রামের সর্দার বাড়ির আনোয়ার হোসেন লিটন, আবু জাফরেরর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পাশের সাদ্রা গ্রামের দর্জিবাড়ির ইউসুফের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ আরো বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর দোকানঘর পুড়ে অন্তত ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
হাজীগঞ্জের ব্যবসায়ীরদের এই সকল ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, পাঁচই গ্রামের বাসিন্ধা তথা বঙ্গবাজারের পুরনো ব্যবসায়ী হাজী জসিম উদ্দিন, তার ভাই ফারুক হোসেন এবং হরিপুর গ্রামের মহসিন উদ্দিন তুষার।
ক্ষতিগ্রস্ত ফারুক হোসেন জানান, জসিম উদ্দিন, আব্দুর রহিম, আব্দুল হান্নান, মানিক হোসেনসহ তাদের ৫ ভাইয়ের ১৫টি দোকান ঘর ও মালামাল আগুনে পুড়ে প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, হাজীগঞ্জের ব্যবাসয়ীদের প্রায় অর্ধ-শতাধিক ব্যবসায়ীর দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
এদিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের মনতলা তালুকদার বাড়ীর আনোয়ার হোসেন, দিগদাইর গ্রামের মো. জসিম, গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ঘনিয়া গ্রামের কামাল শেখ, সাইফুল শেখ ও সুমন, মানুরী গ্রামের জহির মিজি,  দ্বীন ইসলাম ও রুবেল হোসেন।
মনতলা তালুকদার বাড়ীর আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি ঈদ উপলক্ষ্যে মানুষের কাছ থেকে হাওলাত ও ঋণের মাধ্যমে ২৬ লক্ষ টাকার মালামাল গুদামজাত করেছি। ৩ তলার উপর গোডাউন যে কারনে আমি একটি বস্তা মালও সরাতে পারেনি। তাই আমি সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
ক্ষতিগ্রস্ত এই সকল ব্যবসায়ীরা আরো জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সকল ব্যবসায়ী নিজের সহায়-সম্বল, ধার-দেনা, ব্যাংক ঋণ ও বাকিতে মালামাল স্টক করেছেন। রমজানে স্টককৃত এসব মালামাল পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে ঋণ ও বাকি টাকা পরিশোধ করবেন আর তাতেই হানা দিয়ে সর্বস্ব নিস্ব করেছে সর্বনাশা আগুনে।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।