সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

২ বছরেও শেষ হয়নি ফরিদগঞ্জ–কালীরবাজার সড়ক

৬ কোটি টাকার প্রকল্পে ঠিকাদারের তালবাহানা, সামান্য কাজ করেই পৌনে দুই কোটি টাকা উত্তোলন

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৬ এম
৬ কোটি টাকার প্রকল্পে ঠিকাদারের তালবাহানা, সামান্য কাজ করেই পৌনে দুই কোটি টাকা উত্তোলন

দীর্ঘ দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ থমকে থাকায় খানাখন্দে ভরা ফরিদগঞ্জ–কালীরবাজার সড়কে চরম ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের যাতায়াত।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে কালীরবাজার পর্যন্ত সুগুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কটির উন্নয়নকাজ গত দুই বছর ধরে থমকে রয়েছে। প্রায় ৬ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের সরকারি এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদার রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা, ঢিলেঢালা ভাব ও প্রতারণামূলক কালক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে।
সামান্য কিছু কালভার্ট ও সম্প্রসারণের কাজ দেখিয়ে ইতিমধ্যে রাজস্ব খাত থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বিল তুলে নেওয়া হলেও প্রধান সড়কের কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি ও ধুলোবালির চরম ভোগান্তি মাথায় নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে উপজেলাটির প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (RCIP-AF2)’-এর অধীনে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় কালীরবাজার, চরদুঃখিয়া পূর্ব ও পশ্চিম ইউনিয়নের সাথে জেলা ও উপজেলা সদরের যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীবাহী যানবাহনের যাত্রীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কজুড়ে কালভার্ট নির্মাণের ভাঙাচোরা অংশ ও খুঁড়ে রাখা গর্তের তান্ডব। ধুলোবালি ও খানাখন্দে একাকার হয়ে পড়েছে পুরো রুট।
দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক মকবুল আহমেদসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই বছর ধরে এমন জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ রেখে মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। এলজিইডির চোখের সামনে কাজ ফেলে ঠিকাদার বিল তুলে নিচ্ছেন অথচ প্রতিকার নেই। অবিলম্বে এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে সড়ক উদ্ধার করা জরুরি।
ঠিকাদারের গড়িমসির বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মেহেদী হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঠিকাদার রেজাউল করিম কাজের কথা বলে প্রতিনিয়ত নাটক করছেন। প্রতি সপ্তাহেই  কাজ শুরু করব বলে আশ্বাস দেন কিন্তু বাস্তবে তা দেখা মেলে না। তিনি আরো জানান, গত কাল ঠিকাদার সাইটে লেবার পাঠিয়েছেন। দু্রুতসময়ের মধ্যে কাজ শুরুর জন্য সর্বোচ্চ তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার রেজাউল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দীর্ঘ বিলম্বের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। নিজের ব্যক্তিগত সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, আজ শনিবার  কাজের লোক পাঠানো হয়েছে। চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী বাড়ানো অতিরিক্ত সময়ের ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করা যাবে বলে দাবি করেন।
তবে দুই বছর ধরে শতভাগ কাজ আটকে রেখে আরও আট মাস সময় চাওয়ার ঠিকাদারি চক্রের এমন কৌশলে ক্ষুব্ধ এলজিইডি ও সাধারণ মানুষ। এলাকার ভুক্তভোগীদের একটাই দাবি-উত্তোলিত অর্থ ও কাজের অগ্রগতির সরেজমিন অডিট করে এ চুক্তি বাতিল ও দ্রুত নতুন উদ্যোমে সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।