রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে

ভুট্টা ও সরিষা চাষে আনসার কমান্ডার ছাত্তারের বাজিমাত, দাম নিয়ে হতাশ

নোমান হোসেন আখন্দ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ মে, ২০২৩, ৯:২৫ পিএম
ভুট্টা ও সরিষা চাষে আনসার কমান্ডার ছাত্তারের বাজিমাত, দাম নিয়ে হতাশ

সামাজিক ও মানব কল্যানমুখী কর্মকান্ডের পাশা-পাশি স্বপ্ন দেখছেন স্বাবলম্বী হওয়ার, সে স্বপ্নকে বুকে লালন করে দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত এক টুকরো জমিও, থাকবেনা খালি, এ স্লোগানকে বুকে ধারন করে উপজেলা আনসার কোম্পানী কমান্ডার আ: ছাত্তার মজুমদার আনসার ভিডিপির বিভাগীয় প্রশিক্ষনের মাধ্যমে শুরু করেন সরিষা ও ভুট্রা চাষ ।

স্বপ্ন যেন বাস্তবে ধরা দিয়েছে, বাম্পার ফলনে ঘরে তুলেছেন ভুট্রা ও সরিষা। ভালো ফলনে অনেকটা আশাবাদী হলেও সম্ভাবনাময় ভুট্রার দাম নিয়ে অনেকটা হতাশ আনসার কমান্ডার আ: ছাত্তার।

মিল গেটে প্রতি মণ ভুট্রা ১৪ শত থেকে ১৬ শত টাকা দাম থাকলে ও পাইকারী বাজারে ৮ শত থেকে ৯ শত টাকা। এ বিষয়ে আনসার কোম্পানী কমান্ডার আ: ছাত্তার মজুমদার জানান, আনসার ভিডিপির বিভাগীয় প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সরিষা ও ভুট্রা চাষে উদ্বুদ্ধ হই। আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে আবাদ শুরু করি। আমার কোন জমি নেই, সরিষার জন্য ৫৪ শতক ও ভুট্রার জন্য ৮৪ শতক জমি বর্গা নিয়ে নিজে খাটুনি খেটে সরিষা ও ভুট্রা চাষ করি।

এ কাজে আমার সাথে সহযোগিতা করেছেন সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়ন আনসার ভিডিপির দলনেতা মো: মনোয়ার হোসেন । সরিষা আবাদে প্রায় ২০ মন ও ভুট্রা আবাদে ১ শত ২০ মন ফলন পেয়েছি। সরিষায় ভালো দাম ফেলেও ভুট্রার ফলনে আশানুরুপ দাম পাচ্ছি না। দেশীয় পণ্য দাম বাড়িয়ে, জনগণকে উৎপাদনমুখী ও বিদেশ থেকে খাদ্য শস্য আমদানী না করে দেশীয় পণ্যর উপর গুরুত্বরোপ করার আহবান জানান। সে সাথে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনাকে কাজে লাগিয়ে, প্রতিটি জমি ,পরিত্যাক্ত জমি, আনসার ভিডিপির সদস্যদের সামাজিক কর্মকান্ডের পাশা-পাশি, ধান,গম,ভুট্রা,সরিষা,আলু,পেয়াজ, রসুন, সহ উৎপাদনমুখী কৃষি কাজে অংশগ্রহনের জন্য সারাদেশের আনসার ভিডিপির সদস্যদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

Model Hospital

এ দিকে আনসার কোম্পানী কমান্ডার আ: ছাত্তার মজুমদারের সরিষা ও ভুট্রার বাম্পার ফলন দেখতে তার বাড়ীতে ছুটে যান শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শহীদ হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়শা আক্তার, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার, টামটা দক্ষিন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো: জহিরুল আলম ভুইয়াঁ মানিক সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।