শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

মানবসেবায় অসহায় মানুষের পাশে

চাঁদপুরে সামাজিক নানা কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে এগিয়ে চলছে মুক্তির তোরণ ইসলামি সংগঠন

কবির হোসেন মিজি প্রকাশিত: বুধবার, ১০ মে, ২০২৩, ১০:০৭ পিএম
চাঁদপুরে সামাজিক নানা কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে এগিয়ে চলছে মুক্তির তোরণ ইসলামি সংগঠন
“চলবো মোরা একসাথে-জয় করবো মানবতাকে”। এই স্লোগানকে ধারন করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবামূলক সামাজিক নানা কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে মানবসেবায় এগিয়ে চলছে “মুক্তির তোরণ ইসলামি” নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন মানবসেবা দিয়ে এই পর্যন্ত প্রায় ৭ লক্ষ টাকার সেবামূলক কাজ করে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন সংগঠনটি।
এরমধ্যে রয়েছে, করোনাকালীন সময়  অক্সিজেন সিলিন্ডার ক্রয়ের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সেবা প্রদান, পবিত্র রমজানে অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদ সামগ্রী উপহার বিতরণ, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির গোশত বিতরণ, মাদ্রাসার এতিম অসহায় ছাত্রদের মাঝে নতুন পাঞ্জাবি বিতরণ, আগুনে পুড়ে যাওয়া পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, ঘর করার জন্য টিন উপহার প্রদান, অসহায় পরিবারকে স্বাবলম্বী করার লক্ষে ছাগল উপহার প্রদান এবং এস এস সি ও দাখিল পরিক্ষায় এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে সম্মাননা প্রদানসহ সামাজিক নানা কর্মকান্ড।
এর বাহিরেও মুক্তির তোরণ ইসলামি সংগঠনের সদস্যদের বিবাহ অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট ও গিফট উপহার প্রদান করা হয়ে থাকে।
১০মে বুধবার “মুক্তির তোরণ ইসলামি সংগঠনটির ” ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষেও সংগঠনের পক্ষ থেকে ১ জন অসহায় পরিবারকে চিকিৎসার জন্য নগদ ১০,০০০ টাকা এবং আরেকজন অসহায় বাবার মেয়েকে বিবাহ দেয়ার জন্য নগদ ৫,০০০ টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সমাজের বিশেষ ব্যক্তিদেরকে সম্মাননা ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়। এ সময় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক তানভীর মেটালের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব তাজুল ইসলাম মুক্তির তোরণ ইসলামি সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষে সর্বাত্মক পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
একই ভাবে অনুষ্ঠানে আরো চারজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ৩নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা শারাফত উল্ল্যাহ, মোহাম্মদ মাহমুদুল করিম মোরশেদ , ইলিয়াস তপাদার, মোহাম্মদ জাকির হোসেন পাটোয়ারী একই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
২০২১ সালের ১০ মে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। এই সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক মোঃ রাকিব হাওলাদার ও উপদেষ্টা ডাঃ রাকিব হাসান ও মোঃ দেলোয়ার হোসেন সহ আরো অনেকেই সম্পৃক্ত রয়েছেন।  সংগঠনের সকল সদস্যের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সংগঠনের সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মুক্তির তোরণ ইসলামি সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাকিব হাওলাদার ও উপদেষ্টা ডাঃ রাকিব হাসান বলেন, একটি সংগঠনের প্রাপ্তি হলো সংগঠনটির প্রত্যেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার যোগফল। সংগঠনের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারনেই আজ আমরা এতদুর আসতে পেরেছি। এজন্য আমাদের সংগঠনের ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এবং যে সকল শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সহযোগিতা করেছেন মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের সকল সহযোগিতা কবুল করুন ও আখেরাতে উত্তম প্রতিদান দান করুন। যাদের পরিশ্রম ও সহযোগিতায় আমরা আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সহযোগিতা করতে পেরেছি। আগামীতেও তাদের এমন অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতা নিয়ে সংগঠনের মাধ্যমে সবসময় অসহায় মানুষের কল্যানে কাজ করে যেতে চাই।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।