শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

একজন মানবতার ফেরিওয়ালার প্রস্থান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ৪:৪৯ পিএম
একজন মানবতার ফেরিওয়ালার প্রস্থান

সজীব খান : মানুষ বাঁচে কর্মে, বয়সে নয়, ভাব সম্প্রসারণ এ পড়েছি। সে ভাব সম্প্রসারণের যথার্থ তখন ভালো ভাবে বুঝতে না পারলেও কালের বিবর্তনে এখন কিছুটা বুঝার চেষ্টা করছি। মাঠ পর্যায়ের একজন ক্ষুদে সংবাদকর্মী হিসেবে যতটুকু সংবাদ জগতে বিচরণ করেছি, চেষ্টা করছি, বিভিন্ন ব্যাক্তির, সফলতা, ব্যর্থতা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেছি, পাঠক মহলে তুলে ধরেছি, তা হয়তো বা হবে যৎসামান্য, সংবাদপত্রের ছোট্ট পরিসরে অনেকের সংমিশ্রণে এসেছি। আমরা যারা সংবাদকর্মী, তাদের বন্ধু বলতে কেউ নেই, কোন ব্যাক্তির পক্ষে দশটা ভাল সংবাদ, একটা মন্দ সংবাদে সংবাদকর্মীর মত বাজে লোক একটা ও নেই, কতশত উপমা দিয়ে সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার, কারন একটাই, একটা মন্দ নিউজ। এ জন্য বলা হয়, সংবাদকর্মীর কোন বন্ধু নেই। তারপর ও লিখতে হয়, বলতে হয়, পাঠকদের জানাতে হয়।

বলছি চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিকের কথা। তিনি আলোকিত মৈশাদী ইউনিয়ন গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা, তৃনমূলের খেটে খাওয়া মানষের আশ্রয়স্থল, অসহায়-মেহনতি মানুষের বিপদে আপদে, পাশে দাঁড়িয়ে সেবা করার হাতেমতাই। এক মহামানবের অভিভাবকের দায়িত্বের অবসানে মৈশাদীর অসহায় মানুষের আকুতির হাহাকার। এ লেখা প্রকাশের পর আমাকে নিয়ে হয়তো কেউ কেউ বিভিন্ন মন্তব্য করবে, তারপর ও লিখতে হয়, চোখের দেখা, সাধারণ মানুষের মনের কথা তুলে ধরতে হয়, দায়িত্ব নয়, একজন মাঠ পর্যায়ের সংবাদকর্মী হিসেবে লিখতে হয়।

পৃথিবীটাই এমন, এক স্থানে আজীবন কেউ থাকতে পারেনা, থাকা যায় না, প্রবাহমান স্রোতের মত এদিক ও দিক যেতে হয়, এটাই বাস্তব, এ বাস্তবতাই আমাদেরকে মানতে হয়, মানতে হবে। তারপরও কথা থেকে যায়, জনপ্রতিনিধি হয়ে, জনগনকে, রাষ্ট্রকে কি দিল, জনগন কি পেলো। এমন প্রশ্নের উত্তরে সাধারণ জনগন দায়িত্বের অবসানের পূর্বেই ইংগিত দেয়। ভাল কাজ, ভাল সেবা, ভাল মনের মনুষত্ব শুধু দায়িত্বর অবসানের পর বুঝা যায়।

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিকের গত ইউপি নির্বাচনী প্রচারনার শুরু থেকেই সাথে ছিলাম। নির্বাচনে বিজয়ের পর পেশাগত কারনে তার বেশির ভাগ নিউজগুলো আমি করেছি, বিভিন্ন পত্রিকায় ভাল ভাবে প্রকাশও করেছি, সফলভাবে দায়িত্ব পালন করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি, হয়েছেন জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান।

Model Hospital

তার দায়িত্ব পালনকালে চলার পথে কখনোই, কারো সাথে মান অভিমান কোনটাই দেখিনি, বা চোখে পরেনি, হাসি মুখে সকলের সাথে কথা বলেছেন, মিশেছেন, সেবা দিয়েছেন, একজন উদার মনের মানুষের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

গত পাঁচ বছর পূর্বে যখন তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন, তখন থেকেই ছোট ভাইয়ের মত পাশে থেকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়েছেন, স্নেহ দিয়েছেন, ভালবাসা দিয়েছেন তিনি। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলা একজন বলিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি হিসেবে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিককে দেখেছি, চিনেছি। আমার সংবাদ জগতের ১৫ বছরে এমন জনপ্রতিনিধির সংস্পর্শে আর আসেনি। উজার করা ভালবাসার জনপ্রতিনিধি তিনি, সমুদ্র দেখিনি, দেখেছি তার বিশালতা।

মনিরুজ্জামান মানিক মৈশাদীকে ভালোবেসে উজার করে কাজ করেছেন, পাশে থেকেছেন, কালের আর্বতনে সত্যি তিনি একদিন ইতিহাস হবে, দেখবে মানুষ, দেখবে পৃথি্বি, বলবে মুখে মুখে। মনিরুজ্জামান মানিক মৈশাদী খেটে খাওয়া, অসহায়, দিনমজুর মানুষদের যেভাবে আপদে বিপদে পাশে ছিলেন, সেবা করেছেন তার কারও অজানা নয়। একজন সফল জনপ্রতিনিধির প্রস্থানে অনেকেই সত্যি হতভম্ব।

যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি চেয়ারম্যান হয়েছেন, তা বাস্তবায়নে কাজ করেছেন, মৈশাদীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মৌলিক অধিকার সকল ক্ষেত্রেই তিনি সফল, মৈশাদীতে শতভাগ শিক্ষা বিস্তারে ইউনিয়নের প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছেন, অসহায় শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা করেছেন, ইউনিয়নকে ডিজিটাল ইউনিয়ন গরার পাশাপাশি ই-লাইব্রেরি এন্ড স্টুডেন্ট কর্নারে নিজস্ব অর্থায়নে কম্পিউটার দিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। করেছেন মৈশাদীকে একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়ন ।

একজন হাতেমতাইকে হারিয়ে, আপনার প্রতি ইউনিয়নবাসীসহ সকলের শ্রদ্ধা আর ভালবাসা থাকবে আজীবন। মৈশাদীর চাকরিজীবী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক সকলেই আপনার জন্য একটু হলে ও মন খারাপ করবে, আপনি আগেরমত তাদের পাশে থাকবেন, সেবা দিবেন এটাই আমার আমাদের প্রত্যাশা।

হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দিয়ে মৈশাদীর মানুষকে আপন করে নিয়েছেন এমন জনপ্রতিনিধিকে কি করে মানুষ ভুলবে! ভাল থাকবেন ভাই।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’