শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা সাহিত্য মেলা সম্পন্ন

সাহিত্য পুরো জাতি কিংবা সমাজকে পরিবর্তন করে দিতে পারে:  রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০২৩, ১১:০০ এম
সাহিত্য পুরো জাতি কিংবা সমাজকে পরিবর্তন করে দিতে পারে:  রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি
সাহিত্য পুরো জাতি কিংবা সমাজকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। মানবিক গুনাবলী তৈরিতে সাহিত্যের বিকল্প নেই। সাহিত্য কোন  খাদ্য যেমনি আমাদের দেহকে গঠন করে,  তেমনি সাহিত্য আমাদের মনকে গঠন করে বলে জানিয়েছেন বাংলা একাডেমির পুরষ্কার প্রাপ্ত ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর অবসরপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি।
তিনি বৃহস্পতি ও শুক্বারবার দুইদিন ব্যাপী সাহিত্যমেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সাহিত্যের কারনে পৃথিবীতে দাসত্ব বাদের  পরিবর্তন হয়েছে। এক জন লেখক কিভাবে তার লেখনীর মাধ্যমে দেশ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে তুলতে পারে, এমন ঘটনা পৃথিবীতে অনেক আছে।  আমাদেরকে বইয়ের প্রতি নেশা তৈরি করতে হবে।
 বাংলা একাডেমির সমন্বয়ে উপজেলা পর্যায়ের সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকর্ম জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সহযোগিতায় হাজীগঞ্জ উপজেলায় সাহিত্যমেলা-২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়।
 হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন শিশু সাহিত্যিক আহমেদ রিয়াজ।
প্রধান বক্তা বাংলা একাডেমীর পরিচালক ড. আমিনুর রহমান সুলতানের বক্তৃতার পর অতিথিরা সাহিত্যমেলায় অংশ নেয়া করা মির্জা লাইব্রেরী, শিল্পনন্দন, পপুলার বিডিনিউজ, হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল কলেজ, হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল, হাজীগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ অব এডুকেশন ও হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় স্টলগুলো পরিদর্শন করেন।
 শিক্ষক জাহিদ হাসান ও ফারজানা কুমকুমের উপস্থাপনায় দ্বিতীয় পর্বে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাহিত্য অঙ্গন নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ ও  আলোচনা  অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমীর পরিচালক ড. আমিনুর রহমান সুলতান। প্রবন্ধ পাঠ করেন সাংবাদিক ও গল্পকার মনিরুজ্জামান বাবলু।
পঠিত প্রবন্ধের আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত, চাঁদপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক সাঈদুজ্জামান, কবি ও প্রাবন্ধিক পীযূষ কান্তি বড়ূয়া।
তৃতীয় পর্বে  নিবন্ধিত লেখকদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বাংলা একাডেমীর পরিচালক ড. আমিনুর রহমান সুলতান।
চতুর্থ পর্বে কবি ও আবৃত্তিশিল্পী শামীম আহম্মেদ খান ও গল্পকার শাহমুব জুয়েলের উপস্থাপনায় স্থানীয় লেখকদের স্বরচিত কবিতা / ছড়া পাঠ , কথাসাহিত্যিকদের ছোটগল্প উপন্যাস থেকে পাঠ ও নাট্যকারদের নাটক থেকে পাঠ অনুষ্ঠিত হয়।
শেষ পর্বে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে সংগঠনের শিল্পীরা নৃত্য ও গান পরিবেশন করেন।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।