শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে স্বতন্ত্রপ্রার্থী ট্রাক প্রতীকের শফিকুল আলম ফিরোজের উঠান বৈঠক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৯:০৬ পিএম
শাহরাস্তিতে স্বতন্ত্রপ্রার্থী ট্রাক প্রতীকের শফিকুল আলম ফিরোজের উঠান বৈঠক 
শাহরাস্তিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  শাহরাস্তি- হাজীগঞ্জ চাঁদপুর ২৬৪- ৫ নির্বাচনী এলাকায় স্বতন্ত্রপ্রার্থী ট্রাক প্রতীকের  প্রার্থী শফিকুল আলম ফিরোজের  উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত  হয়েছে।
শুক্রবার  বিকেলে  মেহের দক্ষিন ইউপি’র মালরা  গ্রামে এটি অনুষ্ঠিত হয়।ওইদিন ইউপি আওয়ামী লীগের  নেতা মো:বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে  সাবেক ইউপি  সদস্য মফিজুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, স্বতন্ত্রপ্রার্থী ট্রাক প্রতীকের  প্রার্থী শফিকুল আলম ফিরোজ।
তিনি বলেন, আমি এ জনপদের  আপনাদের  সন্তান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  স্বতন্ত্র ট্রাক প্রতীকের  একজন প্রার্থী।
আসন্ন নির্বাচনে আপনাদের  মূল্যবান রায় প্রত্যাশা করছি। তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার এবং আগামী দিনে একটি উন্নত সমৃদ্ধ  শাহরাস্তি বিনির্মাণে  অঙ্গীকারের কথা পূর্ণ  ব্যক্ত করেন ।
এ সময় উপস্থিত জনগণের সঙ্গে কৌশল বিনিময় করে তাদের খোঁজ-খবর নেন।
তিনি আরো বলেন আমি আপনাদের বিগত দিনের দুঃখ-কষ্ট দুর্দশার কথা শুনে আমি ট্রাক  প্রতীকে  একজন স্বতন্ত্র  প্রার্থী হয়েছি। আল্লাহ পাক আমাকে অনেক দিয়েছে। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। আমি এসেছি শাহরাস্তির হাজীগঞ্জের অবহেলিত জনপদের উন্নয়ন সম্পূর্ণ করতে। যদি আপনারা আমাকে সে সুযোগ করে দেন তাহলে আমি আপনাদেরকে সঙ্গে নিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে সেই কাজগুলো করতে চাই।
এছাড়া তিনি সাধারণ কর্মী সমর্থক মানুষদেরকে অভয় দিয়ে বলেন আপনারা  কোন হুমকি ধমকি আমলে নিবেননা  ।
পরিশেষে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন   শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান  আ’লীগ নেতা অধ্যক্ষ এম এ আউয়াল মজুমদার,  সাবেক পৌর আওয়ামিলীগ আহবায়ক মোঃ রেজাউল করিম মিন্টু, উপজেলা আওয়ামীলীগের  সাংগঠনিক সম্পাদক  জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল, চৌধুরী মোস্তফা কামাল, উপজেলা আ’লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক সফিউল আজম স্বপন,  টামটা উত্তর ইউপির আ’লীগ নেতা আলমগীর কবির পলাশ,  উপজেলা আ’লীগের সাবেক  সহ-সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সাধু, সাবেক ছাএনেতা হুমায়ুন কবির হিরো, মহসিন পাটোয়ারী, এফ কাদের বাবু, এমরান হোসেন,  মনিরুজ্জামান শান্ত, সুমন বর্ধন, সাবেক ছাএনেতা রফিকুল ইসলাম রকি, পিযুশ দাস, ইকবাল হোসেন,  আলমগীর হায়দার, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন  প্রমুখ।
সভায় চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন আ’লীগ, যুবলীগ, ছাএলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’