বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘষামাজা করে প্রস্তুত করা হচ্ছে

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে নারায়ণপুর পৌরসভার অস্থায়ী কার্যালয়ের সংস্কার কাজ

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৮:০৬ পিএম
দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে নারায়ণপুর পৌরসভার অস্থায়ী কার্যালয়ের সংস্কার কাজ

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে নারায়ণপুর পৌরসভার নিয়মিত অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অস্থায়ী কার্যালয়ের সংস্কার কাজ। নারায়ণপুর মধ্য বাজারে অবস্থিত নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক কার্যালয়কে ঘষামাজা করে উপযুক্ত করা হচ্ছে নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য। ইউনিয়ন পরিষদের একতলা ভবনের সাবেক এই কার্যালয়টি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় বাজারের ময়লা আবর্জনার স্তুপ ছিল এখানে। একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরও ছিল ব্যবহার অনুপযোগী। সেগুলোই এখন সংস্কার করে প্রস্তুত করা হচ্ছে নারায়ণপুর পৌরসভার অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে।

এদিকে গত ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌর প্রশাসকের সভাপতিত্বে পৌর সহায়ক কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের স্মারক নং ০৫.৪২.১৩৭৬.০০.১৩.০১৬.২০২৩-১০৬০ পত্রের আলোকে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সহায়ক কমিটির ৪০ জন সদস্যের মধ্যে ২৪ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। নারায়ণপুর পৌরসভার প্রথম সভার মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল মোস্তফা তালুকদার দায়িত্ব হস্তান্তর করায় বন্ধ হয়ে যায় ইউনিয়ন পরিষদের ১৯টিরও অধিক সেবা কার্যক্রম। এখন থেকে এ জনপদের সকল নাগরিকসেবা নারায়ণপুর পৌরসভার মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে পৌরসভার অনলাইন সিস্টেম চালু হতে কিছু দিন সময় লাগতে পারে তাই আপাতত জরুরী নাগরিক সেবার কাজ অফলাইনে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতিমা সুলতানা।

তবে হঠাৎ করে ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম বন্ধ এবং নতুন করে পৌরসভার কার্যক্রম চালু হওয়ায় কিছুটা বিরম্ভনার শিকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা পৌরসভার সহজ-সরল সাধারণ নাগরিকরা।

নারায়ণপুর পৌরসভার নাগরিক সেবা গ্রহণকারীদের একজন মো. রাকিব হোসেন জানান, তিনি পাসপোর্ট করার জন্য চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট নিতে এসেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ এবং পৌরসভার সার্ভার বন্ধ থাকায় অফলাইন পদ্ধতিতে সার্টিফিকেট নিচ্ছেন।

Model Hospital

এ ব্যাপারে নারায়ণপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসকের সহায়ক কমিটির সদস্য এবং নারায়ণপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জমির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, আমরা পৌর সহায়ক কমিটির সদস্যগণ নারায়ণপুর পৌরসভার ইতিহাসের স্বাক্ষী। আমাদের হাত ধরেই পৌর নাগরিকগণ প্রথম সেবা পাবেন। তাই আমরা একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন নাগরিক সেবার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করে যাবো।

কথা হয় নারায়ণপুর পৌর সহায়ক কমিটির আরেক সদস্য ও নারায়ণপুর পৌর যুবলীগের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কাকন মুন্সীর সাথে। তিনি জানান, আমরা পৌরসভার নাগরিক সেবা ও সাধারণ জনগণকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানে পৌর প্রশাসকের সহায়ক কমিটির সদস্যরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

নারায়ণপুর পৌরসভার সচিব শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, আমরা পৌরসভার অস্থায়ী কার্যালয়ে নিয়ম মাফিক অফিস করছি। প্রতিদিন নাগরিক সেবা নিতে একাধিক ব্যক্তি অফিসে আসছেন। যতটুকু সম্ভব আমরা মানুষের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। পৌরসভার সার্ভারের কাজ চলমান থাকায় অফলাইনে নাগরিক সনদ ও ওয়ারিশ সনদ হাতে লিখে সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। সার্ভার খোলা হয়ে গেলে পৌরসভার নাগরিকগণ সব ধরনের সেবার আওতায় চলে আসবেন।

নারায়ণপুর পৌর প্রশাসক ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতিমা সুলতানা পৌরসভার নাগরিক সেবার বিষয়ে বলেন, নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম এখন বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার নাগরিক সেবার অনলাইন কার্যক্রম চালু হতে কিছু দিন সময় লাগতে পারে। যাতে নাগরিক সেবা ব্যহত না হয় সে জন্য আপাতত অফলাইনে নাগরিক সেবা চালু থাকবে। নারায়ণপুর পৌর কার্যালয়ে নিয়মিত পৌরসভার সচিব অফিস করবেন। তিনি নাগরিকের ওয়ারিশ সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ, নাগরিক সনদসহ জনগুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো অফলাইনে দ্রুত সেবা দেয়ার জন্য কাজ করছেন।

নারায়ণপুর পৌরসভার উন্নয়ন ও সহায়ক কমিটির সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়ন ও সহযোগিতায় অস্থায়ী পৌরসভার কার্যালয়ের সংস্কার কাজ চলছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই আমরা সেখান থেকে নাগারিক সেবা প্রদান করতে পারবো। তাছাড়া যারা সহায়ক কমিটির সদস্য রয়েছেন তারা আমাকে সার্বক্ষণিক সহায়তা করে যাচ্ছেন।

পৌর নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ২৪টি মৌজা এবং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে নারায়ণপুর পৌরসভা গঠিত। স্থানীয় সরকার বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী আমরা ৯টি ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ করেছি। আমরা এখন সীমানা নির্ধারণের কপি নারায়ণপুর পৌর ভূমি কার্যালয়ে টানিয়ে দিব। সীমানা নিয়ে কারো কোন আপত্তি থাকলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ থাকবে। সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নারায়ণপুর পৌরসভার সীমানা সংক্রান্ত গ্যাজেট প্রকাশ করার পর আমরা একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচনের আয়োজন করবো।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital