শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে

 ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল আলম ফিরোজের টামটায় গণসংযোগ ও পথসভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৮:২২ পিএম
 ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল আলম ফিরোজের টামটায় গণসংযোগ ও পথসভা
শাহরাস্তিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর- ৫ (হাজিগঞ্জ – শাহরাস্তি) নির্বাচনী আসনে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব  শফিকুল আলম ফিরোজ পথসভা ও গণসংযোগ করছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার উয়ারুক রহমানিয়া উবি’র মাঠে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
“ভোট আপনার অধিকার, “আধুনিক চাঁদপুর-০৫ আমার অঙ্গীকার এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিদিন নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
প্রতিটি গণসংযোগে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জনগণের নিকট তার নির্বাচনী ইশতেহার এবং আগামী দিনে একটি উন্নত সমৃদ্ধ শাহরাস্তি হাজীগঞ্জ  বিনির্মাণে অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
উপস্থিত জনগণের সঙ্গে কৌশল বিনিময় করে তাদের খোঁজ-খবর নেন। ট্রাক প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।ওই পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ট্রাক প্রতীকের ( স্বতন্ত্র) প্রার্থী শফিকুল আলম ফিরোজ।
তিনি বক্তব্য বলেন, আপনাদের বিগত দিনের দুঃখ-কষ্ট দুর্দশার কথা শুনে আমি ট্রাক প্রতীকে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে স্বতন্ত্র  প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ করে দিয়েছেন। দেশে যে উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রয়েছে তা অব্যাহত রাখতে এবং প্রধানমন্তী শেখ হাসিনাকে মসনদে বসাতে আগামীর ৭ জানুয়ারি ট্রাক-প্রতীকে ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করুন।
এছাড়া তিনি নির্বাচনী মাঠে বিভিন্ন কথার প্রসঙ্গের রেশটেনে বলেন আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও আমিও আওয়ামী লীগ করি ।
আপনারা কোন হুমকি-ধুমকিকে ভয় পাবেন না আগামী ৭ তারিখ ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।
ইউপি আওয়ামী লীগ নেতা কাজী নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা আ’লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক সফিউল আজম স্বপনের সঞ্চালনায় এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামীলীগের জননন্দিত সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা অধ্যক্ষ এম এ আউয়াল মজুমদার, সাবেক পৌর আ’লীগের আহবায়ক মোঃ রেজাউল করিম মিন্টু, পৌর আ’লীগের সভাপতি আহসান মঞ্জুরুল ইসলাম জুয়েল, উপজেলা আ’লীগের সাবেক যুগ্ন সম্পাদক বাবু খোকন চন্দ্র সরকার, উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল, চৌধুরী মোস্তফা কামাল,  প্রবীন আ’লীগ নেতা খিজির হায়দার, ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মানিক, টামটা উত্তর ইউপির আ’লীগ নেতা আলমগীর কবির পলাশ, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু  সুভাষ চন্দ্র মাধু, উপজেলা আ’লীগের সাবেক সহ-সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সাধু, সাবেক ছাত্রনেতা হুমায়ুন কবির হিরো, মহসিন পাটোয়ারী, এফ কাদের বাবু, এমরান হোসেন, মনিরুজ্জামান শান্ত, সুমন বর্ধন, সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম রকি, পিযুশ দাস, ইকবাল হোসেন, আলমগীর হায়দার, প্রমুখ।
সভায় টামটা ইউপির সকল আ’লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’