শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হুমকি-ধমকি দিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরানো যাবে না : স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী রেদওয়ান খান বোরহান

গাজী মোঃ মহসিন প্রকাশিত: সোমবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৪, ৮:৫৮ পিএম
হুমকি-ধমকি দিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরানো যাবে না : স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী রেদওয়ান খান বোরহান
চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার অলিতে-গলিতে, গ্রামের পাড়া মহল্লায়, পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভিন্ন হাট-বাজারে সাধরন, তরুণ ভোটারদের কাছে গিয়ে ট্রাক মার্কার ভোট চেয়ে প্রচার-প্রচারনা এবং লিফলেট বিতরন, গণসংযোগ, পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ রেদওয়ান খান বোরহান।
পহেলা জানুয়ারি সোমবার সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত চাঁদপুর পৌরসভার ৭, ১২ ও ১৩ নং ওয়ার্ডের আমি ওয়ারলেস বাজার, গুচ্ছগ্রা, গুনরাজদি, রহমতপুর কলনী ও ট্রাকগাট এলাকায় দিনব্যাপী সাধারণ ও তরুণ ভোটারদের কাছে ট্রাক প্রতীকে ভোট চেয়ে গনসংযোগ ও পথসভায় করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী  আলহাজ্ব মোঃ রেদওয়ান খান বোরহান।
পথসভা ও গণসংযোগ স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ রেদওয়ান খান বোরহান বলেন, আপনাদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমি এবার স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। আপনারা যদি আমাকে একটু সার্বিক সহযোগিতা করেন এবং আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রত্যেকে একটি টাক মার্কা ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন। আপনারা জনগণই পারেন আমাকে সংসদে পাঠাতে। আপনাদের একটি ভোটের মাধ্যমে আপনাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে পারে, আপনাদের এলাকার উন্নয়নের পরিবর্তন হতে পারে। আমি মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি। এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কে তাদের যোগ্যতা প্রমান করার সুযোগ দিয়েছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলেছেন। আপনারা আপনাদের পছন্দমত কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। আমি ট্রাক প্রতিক নিয়ে আপনাদের কাছ এসেছি। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করলে আমি এলাকায় সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য কাজ কবরো। সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন সম্ভব হবে এবং সুন্দর সমাজ গঠনে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নাই। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের রুখতে ট্রাক মার্কায় ভোট দিন
তিনি আরো বলেন আপনারা জানেন, এবার আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি। ইতি মধ্যেই আমার নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছ। আমার বিশ্বাস স্বচ্ছ ও নিরপক্ষ নির্বাচন হলে আমি জয়লাভ করব ইনশাআল্লাহ। কাজেই আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন এবং ট্রাক মার্কায় ভোট দিবেন। আপনারা আমার উপর আস্থা রাখেন, আমি আপনাদের আস্থার প্রতিদান দিবো ইনশাআল্লাহ।
চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের রুখতে ট্রাক মার্কায় ভোট দিন।
এসময় তিনি আরো বলেন হুমকি হুমকি-ধুমকি দিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরানো যাবে না। যত বাধা বিপত্তি আসুক না কেন সকল মোকাবেলা করে ট্রাক মার্কা বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।
এসময় ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা কর্মী, এলাকার সুধীজন ও সমর্থকবৃন্দ বিভিন্ন প্রচারনায় অংশগ্রহণ করেন।
গনসংযোগ ও পথসভায় উপস্থিত ছিলেন মাদকমুক্ত চাঁদপুর গড়ি সংগঠনের সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মাহবুবুর রহমান সেলিম, হাইমচর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মিজান খান, চান্দ্রা ইউনিয়ন আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী মোল্লা, সমাজসেবক মোঃ আলম খান সহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’