শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায়

কচুয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও এই মূহুর্তে সন্ধিক্ষণ চলছে : ড. সেলিম মাহমুদ

মো: রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৪, ১০:২০ পিএম
কচুয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও এই মূহুর্তে সন্ধিক্ষণ চলছে : ড. সেলিম মাহমুদ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কচুয়া আসনে নৌকার প্রার্থী প্রফেসর ড. সেলিম মাহমুদ বলেছেন, আজকে আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির এক সন্ধিক্ষণে আছে।

অন্যদিকে কচুয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও এই মূহুর্তে সন্ধিক্ষণ চলছে। জাতীয় রাজনীতির সন্ধিক্ষণ বলছি এ কারণে বিগত কয়েক বছর ধরে প্রায় ১ দশকেরও বেশি সময় ধরে এদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ভুন্ডুল ও বানচাল করার জন্য দেশী-বিদেশি ষড়যন্ত্র করে আসছে বিএনপি-জামায়াত। তারা যে কোন মূল্যে এদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে এদেশের অর্থনীতির যে ভীত রচনা করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা সে অর্থনীতিকে তারা ধ্বংস করতে চায়।

তিনি আরো বলেন, আজকে যে নির্বাচন বানচালের যে ষড়যন্ত্র সেটি নতুন কিছু নয়। আপনারা যদি বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করেন গভীরভাবে সে নির্বাচন কেন হয়? নির্বাচন হয় ক্ষমতা পরিবর্তণের জন্য। গণতন্ত্রের বিশে^ নির্বাচন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন করবে। জনগণ তাদের ভোট দিবে।

যারা নির্বাচিত হবেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে তারা সরকার গঠন করবেন। আর যারা পরাজিত হবে তারা খুশি মনে বিরোধী দলে যোগদান করবেন। তারা নানা কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে। এটাই গণতান্ত্রিক রীতিনীতি। এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে একটি রাষ্ট্র স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই এই ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে বাংলাদেশে গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছে। আজকে বিএনপি নির্বাচন বর্জন, প্রতিহত ও গণতন্ত্র ধ্বংস করতে চায়। ৭৫’রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মূল কারন ছিল, তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে কখনো নির্বাচনে পরাজিত করতে পারবে না। সে জন্য তারা এ বিপদগামী পথ বেছে নিয়েছে। ৫৫ হাজার ৫শ ৫৮ বর্গ মাইলের জমির মালিক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

Model Hospital

৭ই জানুয়ারি জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় লাখ লাখ মানুষ ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় গণসংযোগকালে ড. সেলিম মাহমুদ উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মর্ফিজুর রহমান বাবলু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আইয়ুব আলী পাটওয়ারী ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার একেএম মোতালেব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান হাতেম, জেলা পরিষদের সদস্য তৌহিদুর ইসলাম খোকা, আওয়ামী লীগ নেতা কবির হোসেন, রফিকুল ইসলাম, ড. নিজাম, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম সওদাগর, সাবেক চেয়ারম্যান আহসান হাবীব জুয়েল, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার সিকদার প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’