শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বাধীনতা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা

গোটা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ : চাঁদপুর জেলা প্রশাসক

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০২৪, ৯:৪৪ পিএম
গোটা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ : চাঁদপুর জেলা প্রশাসক
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেছেন স্বাধীনতার ইতিহাস মুক্তি আর সংগ্রামের ইতিহাস। তাই দেশকে এগিয়ে নিতে স্বাধীনতার চেতনা লালন ও ধারণ করার কোনো বিকল্প নেই। ঐক্য হচ্ছে বাঙালি জাতির প্রথম চেতনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। জাতীর পিতা সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আজকের যে অর্থনীতি তা হাজারো চেষ্টায় অর্জন করা হয়েছে। গোটা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। এখনো স্বাধীনতা বিরোধীদের অপচেষ্টা থেমে যায়নি।
মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং দেশের উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান বলেন, স্বাধীনতার শক্তিতে, দীপ্তিতে বলীয়ান হয়ে এই অপচেষ্টাকারীদের রুখে দিতে হবে। সবাই একসাথে কাজ করি, আমরা সক্রিয় হই অধিকার আদায়ে। আমাদের সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। তবেই আমাদের উন্নতি অগ্রগতি তরান্বিত হবে। বঙ্গবন্ধু বৈষম্যহীন একটি দেশের স্বপ্ন দেখতেন। সেই সমাজে ধনী-দরিদ্রের, নারী পুরুষের বৈষম্য থাকবে না। যা কিছু সুন্দর, আধুনিক, দেশের জন্যে মঙ্গলজনক সেই স্বপ্নই দেখতেন শেখ মুজিবর রহমান। শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এক দিনে স্বাধীন হয়নি। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই দেশ। বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন নবাহ হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি জন্ম না নিলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। স্বাধীনতার জন্য আমাদের মনে অনেক অজানা দু:খ রয়ে গেছে। আমরা জয় বাংলার তিপ্তিতে যুদ্ধ করেছি। আমরা জয় বাংলা বললে মনে জোর পেতাম। এই জয় বাংলা কারো একার নয়। জয় বাংলা শ্লোগান সকলের। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তিলে তিলে ধীরে ধীরে পরিপূর্ণতা লাভ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।
মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান শাহারীয়ার এর সভাপতিত্বে ও সহকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম, চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বশির আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাখাওয়াত জামিল সৈকত, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধা আব্দুল হাফিজ খান, মৃনাল কা‌ন্তি সাহা, সহকারি কমান্ডার মহ‌সিন পাঠান,চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শেখ মহসীনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলার ২’ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’