শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সাহিত্য সম্মেলন আজ; উদ্বোধক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধান অতিথি সেলিনা হোসেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:৩৩ পিএম
চাঁদপুর সাহিত্য সম্মেলন আজ; উদ্বোধক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধান অতিথি সেলিনা হোসেন

নিজস্ব প্রতিনিধি : ‘সৃজনের সম্মিলনে করি অমৃত মন্থন’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দ্বিতীয়বারের মত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাঁদপুর সাহিত্য সম্মেলন-২০২১। শিল্প-সাহিত্যের সংগঠন সাহিত্য মঞ্চের চতুর্থ বর্ষে পর্দাপণ উপলক্ষে আজ ৩১শে ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেল ৩টায় চাঁদপুর রোটারী ক্লাবে দেশ বরেণ্য শব্দশিল্পীদের এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হবে।

সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধন করবেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন দেশবরেণ্য কথাসাহিত্যিক ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সাবেক চেয়ারম্যান সেলিনা হোসেন।

এছাড়া উদ্বোধনী ও সমাপনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার, বরেণ্য প্রাবন্ধিক ও গবেষক ড. সরকার আব্দুল মান্নান, কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার, কবি কামরুল হাসান ও লেখক মনসুর আজিজ, জামশেদ ওয়াজেদ, সৈয়দ আহমাদ তারিক, সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া জীবন, রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ প্রমুখ।

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে জাতীয় সংগীত এবং সম্মেলক গানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সাহিত্য সম্মেলনের কার্যক্রম। আয়োজনে বৈচিত্র্য আনতে গতবারের মত এবারেও অনুষ্ঠানটি কয়েকটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। আলাদা আলাদা পর্বে স্থানীয় এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বরেণ্য শব্দশিল্পীরা কবিতা, গল্প, শিল্পআড্ডাসহ শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা ও কথা বলবেন। এছাড়াও দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করবে মতলব কবিতাঙ্গণ ও বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদের শিল্পীরা। সমাপনী পর্বে দেশবরেণ্য ছয়জন লেখক ও সংগঠককে দ্বিতীয়বারের মত প্রদান করা হবে ‘মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার-২০২১’। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখায় পুরস্কারপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য ছয়জন গুণি লেখক ও সংগঠক হলেন প্রবন্ধ ও গবেষণায় ড. মাসুদুজ্জামান, কথাসাহিত্যে প্রশান্ত মৃধা, কবিতায় জাহিদ হায়দার ও শেখ ফিরোজ আহমদ বাবু, শিশুসাহিত্যে ফারুক হোসেন এবং সংগঠন হিসেবে ইলিয়াস ফারুকী। সব শেষে সাহিত্য মঞ্চের চতুর্থবষে পর্দাপণ উপলক্ষে কেক কাটবেন অতিথিবৃন্দ।

Model Hospital

এছর চাঁদপুর সাহিত্য সম্মেলনের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন চাঁদপুর পৌরসভা। আয়োজক সংগঠন সাহিত্য মঞ্চ পরিবার ইতিমধ্যে স্থানীয় সকল লেখকদের সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি উপ-কমিটি গঠনসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গতবারের মত এবারও আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের জন্যে স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ নিশ্চিত করা হবে।

অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের আগেই প্রত্যেককে একটি করে মাস্ক এবং একটি করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া হবে। চাঁদপুর সাহিত্য সম্মেলনের উন্মুক্ত এই আয়োজনে সকল শব্দশিল্পী এবং সাহিত্যপ্রেমীদের সবান্ধব উপস্থিতি কামনা করেছেন, আয়োজক সংগঠন সাহিত্য মঞ্চের সভাপতি কবি ও অনুবাদক মাইনুল ইসলাম মানিক, সাধারণ সম্পাদক কবি ও গল্পকার আশিক বিন রহিম।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’