শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রেমিক-প্রেমিকা মিলে ব্যাংকের টাকা চুরি করতে নৈশপ্রহরীকে খুন

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৪, ৮:৫৯ পিএম
প্রেমিক-প্রেমিকা মিলে ব্যাংকের টাকা চুরি করতে নৈশপ্রহরীকে খুন

মতলব উত্তরে গজরা বাজারের কৃষি ব্যাংকে টাকা চুরি করতে গিয়ে নৈশপ্রহরী শাহাদাতকে খুন করেন প্রেমিক-প্রেমিকা। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, প্রেমিককে এখনও ধরা যায়নি, চেষ্টা চলছে। তবে প্রেমিকা মিলি আক্তার ও তাদের আরেক সহযোগী মো. সজিব হোসেনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, আটক সজিবের দেওয়া তথ্যানুযায়ী শনিবার সকালে গজরা বাজার কৃষি ব্যাংকের ভল্ট কাটার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার ও বিভিন্ন সরঞ্জাম পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

Model Hospital

২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায় মতলব উত্তর থানাধীন গজরা বাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এর ছাদের ইন্টারনেট টাওয়ার এর সাথে রশি দ্বারা বাঁধা অবস্থায় উক্ত ব্যাংকের নৈশ প্রহরী মোঃ শাহদাত (১৯) এর লাশ পাওয়া যায়। সংবাদ পেয়ে পিবিআই ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত জব্দ সহ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত আসামীদের সনাক্ত করনের যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহন করে।

মামলাটি পিবিআই সিডিউলভুক্ত হওয়ায় মামলাটি অধিগ্রহণ করতঃ এসআই (নিঃ) মোঃ ইব্রহীম খলিল তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

পিবিআই’র এ্যাডিশনাল আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার বিপিএম (বার), পিপিএম এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশে ৫ এপ্রিল পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ এর নেতৃত্বে ও সার্বিক সহযোগিতায় মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই (নিঃ) ইব্রাহীম খলিল ও এসআই মো. রিয়াদ মইনুদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে মামলার ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামী মো. সজিব হোসেন ও মিলি আক্তারকে গ্রেপ্তার করেন।

আসামীরা ব্যংকের টাকা লুট করার উদ্দেশ্যে ভিকটিমকে আসামী মিলি আক্তার প্রেমের ফাঁদে ফেলে রাতের বেলায় ফোন দিয়ে ব্যাংকের ভিতর হতে বাহির করে আনে।

আসামী মো. সজিব হোসেন ও অপর এক আসামী ভিকটিমকে হাতপা বেঁধে ছাদে নিয়ে টাওয়ারের সাথে বেঁধে গলায় বেল্ট ও গামছা পেচিয়ে হত্যা করে গ্যাস ও অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে ব্যাংকের ভল্ট ভাঙ্গার চেষ্টা করে এবং ব্যাংকের মুল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। আসামী সজিবের দেখানো মোতাবেক গ্যাস সিলিন্ডার ও তালা ভাঙ্গার সরঞ্জামাদি ব্যাংকের পিছনের পুকুর হতে উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কৃষি ব্যাংকের ছাদ থেকে শাহাদাত হোসেনের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে ঘটনার পর মতলব উত্তর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে পরিবার।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’