শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ৪৯ নং পাঁচগাঁও সপ্রাবি’র সুবর্ণ জয়ন্তী ও মিলনমেলা পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪, ১:৩৫ এম
আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ৪৯ নং পাঁচগাঁও সপ্রাবি’র সুবর্ণ জয়ন্তী ও মিলনমেলা পালিত
রামপুরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে ৪৯ নং পাঁচগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী ও মিলনমেলা। ‘শেকড়ের টানে, স্মৃতির সন্ধ্যানে’ এ প্রতিপাদ্যে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পুনর্মিলন ঘটে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।
শনিবার (১৩ এপ্রিল) চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের সকদি পাঁচগাঁও গ্রামের ৪৯ নং পাঁচগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অঙ্গনে সকাল থেকে বিদ্যালয়ের নতুন-পুরোনো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়। সকাল সাড়ে নয়টায় বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পায়রা উড়িয়ে সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের শুভ উদ্বোধন করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক জে.এম. মেহেদী মাসুদ (মিঠু) ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল হোসেন মিয়াজী।
সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব ও মিলনমেলায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মেতে উঠেছিলেন আনন্দে, যেন খুঁজে পেয়েছিলেন নিজেদের শৈশব। পুরোনো বন্ধুদের আবার একসঙ্গে পেয়ে যেন কর্মজীবনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গিয়েছিল তাদের। এ সময় কেউ কেউ পুরোনো সতীর্থদের কাছে পেয়ে সময়টি ক্যামেরাবন্দী করে রেখেছেন।
১৩ এপ্রিল দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিলো প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন, উপহার সামগ্রী প্রদান, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের স্মৃতিচারণ, ব্যাচ ভিত্তিক আড্ডা, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, পরিবারের সদস্য এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিযোগীতা, র‌্যাফেল ড্র, বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী ও বৃত্তিপ্রাপ্তদের সম্মাননা স্বারক প্রদান, সর্বশেষ আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক জে.এম. মেহেদী মাসুদ (মিঠু) এর সভাপতিত্বে এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সরোয়ার হোসেন স্বপন, ৫নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল বারাকাত মোহাম্মদ রেজওয়ান।
এছাড়াও স্মৃতিচারণ বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. তারেক হোসেন (বিপ্লব), মো. ইকবাল আজম, মো. সোহেল পাটওয়ারী সোহাগ, গাজী মোহাম্মদ মনির হোসেন, ওবায়েদ উল্যাহ, মো. মিজানুর রহমান, মো. ইছহাক মিয়াজী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মজিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমাইল হোসেন মিঞা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়মের নেছা, প্রাক্তন শিক্ষক মো. আব্দুল হক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. আব্দুর রহিম গাজী, হাজী, আবুল কালাম মুনশী, লিয়াকত আলী খান, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম রাজু, বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, উদযাপন কমিটির বিভিন্ন উপ-পরিষদের আহ্বায়ক ও সদস্যরা সহ প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ ও এলাকাবাসী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’