শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী

অ্যাড. হুমায়ুন কবির সুমন তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয় 

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪, ৮:৪০ পিএম
অ্যাড. হুমায়ুন কবির সুমন তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয় 
আসন্ন চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শিক্ষানুরাগী ও আইনজীবী, সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাড. হুমায়ুন কবির সুমন।
নির্বাচনের জন্য পুর্ন প্রস্তুতি নিয়ে ভোটার, নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের সাথে কুশল বিনিময় করে মাঠ হাঁকাচ্ছেন তিনি। ভোটারদের কাছ থেকে বেশ সাড়াও পাচ্ছেন এ প্রার্থী। যেখানেই গণসংযোগ করছেন সেখানেই হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। তাকে ঘিরে আলোচনা ক্রমশ সরগরম হচ্ছে সমস্ত  উপজেলায়।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নিয়মানুযায়ী সারা দেশে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আগামী ২১ মে দ্বিতীয় ধাপে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ইভিএমে চাঁদপুর সদর উপজেলার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিতব্য উন্মুক্তভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় দলীয় প্রতীক বিহীন চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নির্বাচনে মাঠে এবার প্রতিদ্বন্দিতা করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, অ্যাড. হুমায়ুন কবির সুমন দলের দুঃসময়সহ প্রতিক্ষণেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার অগ্রগামী সকল বাণী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সবার কাছে পৌঁছে দেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সুমন জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মুখ হুমায়ুন কবির সুমন। ইতোমধ্যে সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের মাঝে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন আদর্শবান এই নেতা। দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় সামাজিক উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন তিনি। এছাড়া আচরণগত ভদ্রতা ও নম্রতার কারণে তিনি সব শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়। বিপদাপদে পাশে থাকা, আর্থিক ও সামগ্রিক সহযোগিতা করার কারণে যুব সমাজের কাছেও প্রিয় মুখ তিনি।

Model Hospital

উপজেলা যুবলীগের লীগের দীর্ঘদিনের এই  নেতা ক্লিন ইমেজ, সততা, নিষ্ঠা ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ও সর্বমহলে প্রশংসিত। উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও তিনি সর্বস্তরের জনগণের আস্থা অর্জনে সমর্থ হয়েছেন। দলের দুঃসময়-সুসময় সর্বদা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে রাজনৈতিক মহলে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

জেলার অন্যতম একটি শক্তিশালী সংগঠন চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবলীগ। যার সফল নেতৃত্বে ও অক্লান্ত পরিশ্রমে উপজেলা যুবলীগ সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গা করে নিয়েছে। আহবায়ক কমিটি গঠিত হওয়ার পর থেকে পুরো উপজেলায় যুব সমাজের কাছে যুবলীগ একটি প্রিয় সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

অ্যাড. হুমায়ুন কবির সুমনের নেতৃত্বে দলের সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহন ও দূযোর্গকালে মানুষের পাশে দাড়িয়ে দলের জন্য সুনাম কুড়িয়েছে উপজেলা যুবলীগ। যেখানেই দলের কর্মসূচী সেখানেই যুবলীগ ভূমিকা রাখছে। গত ২০১৮’ ২০২৪ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ প্রতিটি নির্বাচনে যুবলীগ গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরে দেশে করোনা মহামারির জন্য কার্যক্রম সীমিত করা হলেও থেমে থাকেনি যুবলীগের কার্যক্রম। ধান কাটাসহ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছি। ভদ্র, বিনয়ী, ক্লিন ইমেজের এই নেতাকে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে চান উপজেলাবাসী।

উল্লেখ্য: হুমায়ুন কবির সুমন রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। ডা. দীপু মনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন এপিএস হিসেবে সুনামেরসহিত দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি বর্তমানে ষোলঘর আদর্শ উচ্চ বিদ্যলয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, মধ্য তরপুরচন্ডী আলী দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি, মারফোতননেছা এতিমখানার পরিচালক, শেখ কামাল ক্রীড়া একাডেমীর যুগ্ম সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা, ক্রীড়া ও সামাজিকতায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে নানাবিধ প্রশংসনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি গতবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও চেয়ারম্যান প্রদে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তাই আসছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে হুমায়ুন কবির সুমন সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’