শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

দীপু মনি ও তার ভাই টিপুর বিরুদ্ধে কথা বলে আলোচনায় নাজিম দেওয়ান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ মে, ২০২৪, ৯:১৪ পিএম
দীপু মনি ও তার ভাই টিপুর বিরুদ্ধে কথা বলে আলোচনায় নাজিম দেওয়ান
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও তার বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপুর বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রসঙ্গিত ইস্যু টেনে কথা বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম দেওয়ান। তিনি এবারও কাপ পিরিজ মার্কা নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন।
১০ মে শুক্রবার নাজিম দেওয়ানের দেয়া গণমাধ্যমের একটি সাক্ষাৎকার ভাইরাল হলে এ প্রতিবেদকের নজরে আসে।
যেই সাক্ষাৎকারে নাজিম দেওয়ান বলেন, শেখ হাসিনা যেহেতু দলের কাউকে মনোনয়ন দেয়নাই। মনোনয়নের সিদ্ধান্তও নেয় নাই। দলের এমপি, মন্ত্রী, দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং তাদের আত্মীয় স্বজন, মন্ত্রী এমপির ভাই কেউ যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে এবং কারো পক্ষ অবলম্বন করে মাঠ পর্যায়ে না যায় সেই ঘোষণা দিয়েছেন। দুঃখের বিষয় চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এর ব্যাতিক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও ওনার ভাই টিপু ওনার চাঁদপুরস্থ বাসায় একজন প্রার্থীর (আইযুব আলী বেপারীর দোয়াতকলম মার্কার) নির্বাচনী ক্যাম্প পরিচালনা করছেন। এটা অত্যান্ত দুঃখজনক।
তিনি দীপু মনিকে উদ্দ্যেশ্য করে বলেন, আমরা নেত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রদ্ধা করি। তাই নেত্রী যখন যাকে মনোনয়ন দেন তার পক্ষে আমরা কাজ করি। সেখানে আমরা কারো যোগ্যতা অযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলি না। কিন্তু এখানে নেত্রীর নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে।
নাজিম দেওয়ান বলেন, একজন বিশেষ প্রার্থীকে (আইয়ুব আলী বেপারী) যখন মন্ত্রী ও তার ভাই তার বাসাটাকে নির্বাচনী ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়। তাহলে শেখ হাসিনা যে এবার কোন দলীয় মনোনয়ন বা এমপি মন্ত্রীকে সমর্থণ দিতে বারণ করেছেন তা কি অমান্য হচ্ছে না?। এটা আমাদের দলের জন্য অত্যান্ত লজ্জাজনক। এই ধরনের কর্মকান্ড চলতে থাকলে আগামীতে আওয়ামীলীগের ভবিষ্যত খুবই অন্ধকার হবে।
নাজিম দেওয়ান আরও বলেন, আমি দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনারা যে ঘোষণা দিয়েছেন তা রক্ষায় আরও তৎপর হন এবং নির্বাচনের পূর্বেই যারা যারা দলীয় নির্দেশ অমান্য করলেন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিন। নয়তো তাহলে এ ধরণের ঘোষণা দেয়ার কোন মানেই হয়না।
উল্লেখ্য, ২১ মে চাঁদপুরে উপজেলা নির্বাচনের ভোট হবে। সেখানে নাজিম দেওয়ানের কাপ পিরিজ, আইয়ুব আলী  বেপারী দোয়াত কলম, কালু ভূইয়া মোটর সাইকেল, হুমায়ন কবীর সুমন ঘোড়া এবং রাকিব মাঝি আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’