শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পিতার আদর্শ ফিরিয়ে দিতে নৌকা প্রতিকে চেয়ারম্যান হতে চাই; সাউদ আল নাছের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১, ৪:৩০ পিএম
পিতার আদর্শ ফিরিয়ে দিতে নৌকা প্রতিকে চেয়ারম্যান হতে চাই; সাউদ আল নাছের
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং নীল কমল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাউদ আল নাছেরের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়নের সমাজপতিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত সকলেই সাউদ আল নাছের কে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান।
৪ নভেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪নং নীল কমল ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ বাচ্চু মোল্লার সভাপতিত্বে ও ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক মোল্লার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ৪নং নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সাউদ আল নাসের, নীলকমল ইউনিয়ন আওয়ামীলী সহ-সভাপতি লেকমত মোল্লা, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য মোঃ মোশাররফ হোসেন, ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মোঃ নবাব  মোল্লা, স্থানীয় সমাজ সেবক মতিন সরদার প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ৪নং নীল কমল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান সরদার, সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান সরদার, হাইমচর ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম দেওয়ান, ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মোঃ রুবেল হোসেন খান, ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারী, সাবেক ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি দাদন মিয়া, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মোঃ আলাউদ্দিন বেপারীসহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ও পরিবর্তনে অঙ্গীকারবদ্ধ স্থানীয় জনসাধারন।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সানাউল্লাহ পেদার আয়োজনে নির্বাচনী মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সকলের সতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকায় সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।মতবিনিময় সভা শেষে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় সাউদ আল নাছের বলেন, আমার বাবা মরহুম নাছির সরদার ছিলেন নীল কমল ইউনিয়নের একজন আদর্শ চেয়ারম্যান। যার সুনাম হাইমচর উপজেলা সহ চাঁদপুর জেলায় সমাদৃত ছিল। তার মৃত্যুর পর আদর্শ বিলীন হয়ে যায়।
বর্তমান চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সরদারের অত্যাচার, অবিচার, অসম্মান, জুলুমসহ তার শোষনের শিকার নীল কমল ইউনিয়নবাসী। আমার মাধ্যমে আমার বাবার সেই আদর্শ পেতে চান এখানকার শোষিত জনগণ। চাল চুরি, ভূমিদস্যুতা সহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হয়ে টাকার পাহাড় গড়েছেন তিনি। তার টাকার অহংকারে অপমানিত, লাঞ্ছিত ও অত্যাচারিত হয়ে আসছেন তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় সর্বসাধারণ।
তিনি আরও বলেন- এখানকার মানুষজন টাকা-পয়সা বা ধন সম্পদ চান না। তারা চায় সম্মানের সাথে বেঁচে থাকতে। তাই আমি বাবার আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের বেচে থাকার সম্মানটুকু ফিরিয়ে দিতে চাই।
তাই আমি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী সহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে আবেদন জানাই, তৃনমূল নেতাকর্মীদের মতামত নিয়ে জনগণ যাকে চেয়ারম্যান হিসেবে চায় তাকেই যেনো নৌকা প্রতিক দেওয়া হয়।
যার দ্বারা দলের সম্মান ক্ষুন্ন হয়, সাধারণ মানুষ অত্যাচারিত, নিপিড়ীত ও অসম্মানিত হয় তাকে যেনো নৌকার মনোনয়ন না দেওয়া হয়। এটা আমার দাবি-ই নয়, বরং এটা তৃণমূল নেতাকর্মী সহ সর্বসাধারণের দাবী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’