শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

হাইমচরে প্রেসক্লাব কার্যালয় পুনরুদ্ধার করে দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে উদ্বোধন

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৪, ১১:৩৪ পিএম
হাইমচরে প্রেসক্লাব কার্যালয় পুনরুদ্ধার করে দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে উদ্বোধন
হাইমচর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠিত উপজেলা প্রেসক্লাব নতুনভাবে পথচলা শুরু করতে দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে হাইমচর প্রেসক্লাব কার্যালয় শুভ উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোঃ মাজহারুল ইসলাম শফিক।
১৯ আগষ্ট ২০২৪ সোমবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব কার্যক্রম নতুনভাবে যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে দোয়া ও মিলাদ পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শরীফ মোঃ মাছুম বিল্লাহ। দোয়া শেষে উপস্থিত সর্বসাধারণের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালে হাইমচরে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে হাইমচর প্রেসক্লাব গঠন করা হয়। সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে বিভিন্ন ভবনে অফিস ভাড়া নেওয়া হয়। ভাড়া অফিসে কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় নিজেদের অর্থে প্রেসক্লাবের জন্যে একখণ্ড জমিন ক্রয় করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পরে তৎকালীন সাংসদ এস এ সুলতান টিটুর প্রোগ্রাম কাভারেজ করায় সাংবাদিকদের ২০ হাজার টাকা দেন তিনি। এরপর শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ২০ হাজার, মাহবুবুর রহমান শাহীন ২০ হাজার, চাঁদপুর আজিজ ব্রাদার্স এর পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ৮০ হাজার টাকা জমা হয়। জমির মালিকের অনুদান ও ৮০ হাজার টাকা জমির মালিককে দিয়ে হাইমচর প্রেসক্লাবের জন্য একখণ্ড জমিন ক্রয় করা হয়। এরপর সেখানে ঘর নির্মাণ করে সাংবাদিকদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তখন এ প্রেসক্লাবে চারজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে আরও জনের নাম যোগ করে হাইমচর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ জন।
কালের বিবর্তনে সময়ের পরিক্রমায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে অনেক অসাংবাদিককে সদস্য করে প্রেসক্লাবকে কলঙ্কিত করা হয়। কাউকে কাউকে আজীবন সদস্য, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দদের সাধারণ সদস্য করে এক রাতেই হাইমচর প্রেসক্লাবের ২২ সদস্য থেকে সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৬ জনে। এহেন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসহ সর্বমোট ৮ জন প্রেসক্লাব সদস্য পদত্যাগ করেন। একইদিনে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে উপজেলা প্রেসক্লাব, হাইমচর নামে নতুন প্রেসক্লাব তৈরি হয়। পরে একই বছর ডিসেম্বরে উৎসবমুখর পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন করা হয়।
গত ৫ আগষ্ট ২০২৪ সোমবার স্বৈরশাসক আওয়ামী সরকারের পতন হলে উৎসুক জনতা প্রেসক্লাব ভাংচুর করে। ক্ষিপ্ত জনতার হাত থেকে প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাজহারুল ইসলাম শফিকের নেতৃত্বে উদ্ধার করে তালা দিয়ে রাখা হয়। পরে মেরামত কার্যক্রম শেষে ১৯ আগষ্ট নতুনভাবে দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।