শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বন্যাদুর্গত এলাকায় সপ্তাহব্যাপী চলছে বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম

আপনাদের দুঃখ কষ্ট লাঘবে সবকিছু করা হবে : লায়ন ইঞ্জি. মমিনুল হক 

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৮:০৬ পিএম
আপনাদের দুঃখ কষ্ট লাঘবে সবকিছু করা হবে : লায়ন ইঞ্জি. মমিনুল হক 

শাহরাস্তিতে বন্যাদুর্গত এলাকায় বানভাসিদের মাঝে সপ্তাহব্যাপী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে ত্রান (উপহার) সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

গত কয়েকদিন পূর্বে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করে। ওই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল  থেকে রাত অবধি শাহরাস্তি উপজেলার ৪ টি ইউপির ৬টি  এলাকায় বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ও বাজার এলাকায় শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপি’ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

ওই ত্রাণ কার্যক্রমে সংক্ষিপ্ত পথসভায় শাহরাস্তি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কারা নির্যাতিত নেতা মো: আলী আজগর মিয়াজির সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, শাহরান্তি-হাজীগঞ্জ বিএনপির সমন্বয়ক, সাবেক চাঁদপুর জেলা বিএনপির সফল সভাপতি ইঞ্জি: লায়ন মমিনুল হক।

ওইদিন তিনি উপজেলার সূচিপাড়া উত্তর- দক্ষিণ ইউপির শোরসাক, লোট্ররা সপ্রাবি, শুচিপাড়ার ডিগ্রী কলেজ, চিতোষী পশ্চিম -পূর্ব ইউপির আয়নাতলী উবি, পঞ্চনগর উবি,চিতোষী বাজারসহ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করে বক্তব্য দেন।

Model Hospital

তিনি বলেন,ইতোমধ্য বাংলাদেশ একটি কান্তিকাল অতিক্রম করে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।

এটি সম্ভব হয়েছে, সম্প্রতি  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থী সহ-সাধারণ মানুষের জীবনের বিনিময়ে। এরই মধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ দুটি নদীর পানি হঠাৎ করে ছেড়ে দেওয়ায় এবং বাংলাদেশে অতিবৃষ্টির দরুন এই জনপদে স্মরণকালের বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। ওই বন্যায় চাঁদপুরের কয়েকটি উপজেলা সহ শাহরাস্তি এবং হাজীগঞ্জের জনভূমি তলিয়ে গেছে। এতে অন্তত দুই উপজেলার তিন থেকে চার লক্ষ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।আপনাদের ওই দুঃখ-কষ্ট লাঘবে শাহরাস্তি হাজীগঞ্জের বানভসসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমরা সামান্য উপহার নিয়ে হাজির হয়েছি।

ওই সময় তিনি বিএনপি’র দলীয় কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কেউ কোথাও অরাজকতা সৃষ্টি করবেন না। এই মাটি সকল ধর্ম বর্ণ গোষ্ঠী ভেদে সকলের দেশ। এখানে সকল দল এবং মতের মানুষের সমান অধিকার বিরাজমান থাকবে। আপনারা কোন দলের লোকজনের প্রতি অবিচার করবেন না। যদি কেউ এমন সাহস দেখায় তাহলে বিষয়টি তাকে জানিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

তিনি এও বলেন এই উদার মানসিকতার রাজনীতির জন্যই বিএনপি অন্যদের চেয়ে ভিন্ন।

পরিশেষে তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত বানভাসি মানুষদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

এ সময় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আয়েত আলী ভূঁইয়া,সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম পাটওয়ারী লিটন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা বিএনপি সহ সভাপতি আবু ইউছুফ পাটওয়ারী রুপম, পৌর বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আবুল কালাম পাটোয়ারী,সাবেক পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম, বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম মাস্টার, সোলেমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, ইউপি চেয়ারম্যান জোবায়দুল কবির বাহাদুর, ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলম বেলাল, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক এড. সাহেদুল হক সোহেল,ইকবাল হোসেন, সাবেক চাঁদপুর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আলী হোসেন মন্টু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ মাসুদ আলম, সদস্য সচিব মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন শিপন, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ইঞ্জি: এবি এম  পলাশ, সদস্য সচিব আজগর হোসেন মিয়াজী, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মোঃ হেলাল উদ্দিন, পৌর  শ্রমিক দলের আহবায়ক মোঃ আব্দুল খালেক।

বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হোসেন, আলি আকবর বেপারীসহ শাহরাস্তি উপজেলা ও সকল ইউপির, ওয়ার্ডের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও সকল সহযোগী অঙ্গসংগঠন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’