শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে হামলা ভাংচুর, অগ্নীকান্ডের পর এবার চুরির শিকার এক ব্যবসায়ী  

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৭:৪৯ পিএম
ফরিদগঞ্জে হামলা ভাংচুর, অগ্নীকান্ডের পর এবার চুরির শিকার এক ব্যবসায়ী  
গণঅভ্যুথানের রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ধকল কাটিয়ে না উঠতেই এবার দুর্ধষ চুরির শিকার হলেন মিজানুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী।
সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদু:খিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের বিরামপুর বাজারে এই চুরির ঘটনা ঘটে। এব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর বাজারের ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার রাতে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ বাড়িতে যান। সকালে তার দোকানের কর্মচারী দোকান খুলতে গিয়ে সাটার খোলা ও মালামাল এলামেলো অবস্থায় দেখতে পায়। পরে খবর পেয়ে মিজানুর রহমান এসে দেখতে পান তার দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মিজানুর রহমান জানান, চোরের দল বিভিন্ন ব্রান্ডের সিগারেট, বেবি ফুড, দুধ, সয়াবিন তৈল, ঘিসহ প্রায় সাড়ে ৪লক্ষ টাকার মালামাল ও আমার প্রয়োজনীয় দলিল, ব্যাংকের চেকবইসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুথানের রাতে আমার বাড়িতে হামলা ছাড়াও আমার এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর, লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এই ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতে নতুন করে ব্যবসা শুরুর চেষ্টাকালে আবারো চুরির শিকার হলাম। এমনভাবে একেরপর এক ঘটনা ঘটলে পরিবার পরিজন নিয়ে আমাকে পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবেনা। আমি চাই প্রশাসন চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির ব্যবস্থা করুক।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাস্টার বলেন, বিরামপুর বাজারের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের দোকানে অগ্নীকান্ড ও লুটপাটের ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমি মনে করি চিহ্নিত কোন চক্র এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমি চাই পুলিশ এই চক্রকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার করবে। আমার ইউনিয়নে কোন অপরাধীদের ঠাঁই নেই।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ  মো. হানিফ সরকার বলেন, বিরামপুর বাজারে চুরির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের মাধ্যমেচোর শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’