শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আত্মগোপনে থাকা

চেয়ারম্যানের বাড়িতেই চলছে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাক্ষর-সালিশ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৮:০১ পিএম
চেয়ারম্যানের বাড়িতেই চলছে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাক্ষর-সালিশ
আত্মগোপনে আছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মিরাজ। ইউপি সদস্যদের একাংশের এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিন গিয়ে বাড়িতেই পাওয়া গেল তাকে। সেখানেই করছেন সালিশ। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরাদিও সারছেন সেখানেই। বাড়িতেই বিকল্প ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় গড়ে তুলেছেন তিনি!

কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, নৌকার মনোনয়নে চেয়ারম্যান হয়েছি। সরকার পতনের পর সাবেক চেয়ারম্যান বাছির আহমেদের নেতৃত্বে আমার কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। পরিষদে গেলে লাঞ্ছিত হবার আশঙ্কা করছি। তাই বাড়িতেই বসে কাজ করতে হচ্ছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মিরাজের বিরুদ্ধে নানান প্রকল্পে অনিয়ম, টাকা আত্মসাত এবং সরকার পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকার অভিযোগ আনেন তার ইউপি সদস্যদের একাংশ।

লিখিত বক্তব্যে তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হোল্ডিং ট্যাক্সের এক কোটির অধিক টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়া, কাজ না করে কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের টাকা উত্তোলন, নিজস্ব বাহিনীর সিম কার্ড ব্যবহার করে ৪০ দিনের কর্মসূচী প্রকল্পের টাকা উত্তোলন এবং উল্লেখিত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন তারা। এছাড়াও জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিকত্ব সনদসহ সেবাখাতসমূহ থেকে সরকারি ফি এর অতিরিক্ত বহুগুণ ফি আদায়েরও অভিযোগ করেন তারা।
ইউপি সচিব আব্দুল মান্নান অভিযোগসমূহের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যান মহোদয় এসব বিষয়ে অবগত আছেন।

Model Hospital

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মিরাজ বলেন, নাগরিক সেবা খাতসমূহে যে সকল অনিয়মের অভিযোগ এসেছে তার দায় মূলত সচিব আব্দুল মান্নান এবং উদ্যোক্তার। কাজ সম্পন্ন করার স্বার্থে কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের কিছু টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজে ট্যাক্সের টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এর হিসাব আমার কাছে আছে। সিম কার্ডের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

উল্লেখ্য ২২ জানুয়ারী, ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ব্যালট ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে উপজেলার সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেন মাহমুদুল হাসান মিরাজ। যা নিয়ে এখনো মামলা চলমান রয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’