শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিদর্শনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব

ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে টেকসই উন্নয়ন ও আধুনিক মানদন্ডের উপর গুরুত্ব আরোপ : যুগ্ম সচিব মনিরুল আলম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১১:১৯ পিএম
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে টেকসই উন্নয়ন ও আধুনিক মানদন্ডের উপর গুরুত্ব আরোপ : যুগ্ম সচিব মনিরুল আলম
চাঁদপুরে বন্যা কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব মো: মনিরুল আলম।
মঙ্গলবার দিনব্যাপী পরিদর্শনে তিনি চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ বাজার এলাকা, শাহরাস্তি অংশের উয়ারুক বাজার, শাহরাস্তি গেট (দোয়াভাঙ্গা), কুমিল্লা অংশের মুজাফফরগঞ্জ বাজার।
চাঁদপুর অংশের মুদাফফরগঞ্জ- রামগঞ্জ-চিতোষী সড়ক। চাটখিল চিতোষী-শাহরাস্তি সড়ক। চিতোষী চাটখিল সড়কের নাটেশ্বর, পানচাইল, নরেহ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওইদিন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব মো: মনিরুল আলম সম্প্রতি বন্যায় কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। ওই সময় তিনি জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শাহরাস্তি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক গুলো পরিদর্শনে শেষে বলেন, সড়কের যে সকল অংশে বৃষ্টির বা বানের পানিতে অল্পতে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে নষ্ট হচ্ছে ওই সকল অংশে পাকা করনের জন্য সম্ভাব্য প্রাক্কলন প্রস্তুত এর জন্য চাঁদপুর সড়ক ও সেতু বিভাগকে নির্দেশ প্রদান করেন।
ওই সময় তিনি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সড়কের অবকাঠামো নির্মাণে প্রকৌশল বিভাগকে আধুনিক মানদন্ড বজায় রেখে কাজ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এছাড়া বানভাসি মানুষের কষ্ট লাঘবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আলিউল হোসেন, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: ইয়াসসির আরাফাত, কচুয়া সার্কেলের (এএসপি) রেজওয়ান সাঈদ জিকু, উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী, সড়ক উপবিভাগ হাজীগঞ্জ ওয়াছি উদ্দিন আহমেদ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহিন হোসেন,মোঃ আবদুর রহিম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’