শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ’

চাঁদপুরে ডাক্তার পরিচয়ে সরকারি হাসপাতালের ওটি বয় আলমগীর

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১:৩৩ পিএম
চাঁদপুরে ডাক্তার পরিচয়ে সরকারি হাসপাতালের ওটি বয় আলমগীর

অনেক দিন প্রবাসে ছিলেন আলমগীর হোসেন। ২০১১ দেশে ফিরে এক আওয়ামী লীগ নেতার হাত ধরে চাকরি নেন কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) বয় হিসেবে। কিন্তু ওই বছরই আবারও তদবির করে চলে আসেন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে। এরপর থেকেই ঘুরতে থাকে তার ভাগ্যের চাকা। বনে যেতে থাকেন ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ’। যদিও এর পেছনে কিছু আছে কিছু অপকৌশল। তবে একাত্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আদ্যোপান্ত।

আলমগীরের বাড়ি রামপুর বাজার সংলগ্ন পশ্চিম লাড়ুয়ায়। স্থানীয় ও একাধিক সূত্রে পাওয়া অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে জানা যায়, আলমগীর নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে এলাকায় চেম্বার খুলে বসেছেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই না বুঝে তার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অথচ চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে তার পরিচয় একজন ওটি বয় হিসেবে। কী করে একজন ওটি বয় চিকিৎসক বনে গেলেন, একাত্তর এবার সেই অনুসন্ধানে।

জানা গেলো, আলমগীরের বাড়ির নামফলকে ডাক্তার পদবি লেখা। শুধু বাড়িই নয়, পারিবারিক করবস্থানের নামফলকেও আলমগীরের নামের আগে ডাক্তার লেখা। তবে তার চেম্বারের সামনে কোনো সাইন বোর্ড দেখা যায়নি। এরপর একাত্তর নিশ্চিত হয়, আলমগীরের বিএমডিসির কোনো নিবন্ধন নম্বর নেই। অর্থাৎ তিনি কোনোভাবেই সরকারি বা বেসরকারি চিকিৎসক নন। নামের আগে যে ডাক্তার পদবী, তা শুধুই প্রতারণা।

রামপুর বাজারের একজন ওষুধ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি নিজে এই বাজারে গত ৩০ বছর ব্যবসা করলেও অবস্থা আগের মতোই। কিন্তু আলমগীর হোসেন সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার পরিচয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। সাধারণ মানুষ বুঝে না বুঝেও তার চিকিৎসা নিতে আসেন। আর সরকারি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও তার এই ভুয়া ডাক্তার পরিচয় বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

Model Hospital

একাত্তর যখন শতভাগ নিশ্চিত আলমগীর চিকিৎসক নন, তখন সরাসরি তার মুখোমুখি হয়। এসময় অকপটে আলমগীর স্বীকার করেন, নামে আগে ডাক্তার পদবি লেখা উচিত হয়নি। তবে রামপুর বাজারে বিকেলে পাঁচটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রোগী দেখছেন। করছে খৎনাও। তবে জানান, পল্লী চিকিৎসকের কোর্স তিনি করেছেন।

চিকিৎসক না হয়ে কেন এই পরিচয় দিচ্ছেন, প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এলাকার লোকজনই আমাকে ডাক্তার বলে ডাকে। সেই জন্যই ডাক্তার লিখি। চিকিৎসক পরিচয় দেয়া আমার ঠিক হয়নি। এটি লেখাও ভুল হয়েছে। তবে এখন থেকে আর এই পরিচয় দেবো না।

এ নিয়ে কথা হয় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার হাসপাতাল এরিয়ার মধ্যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম করলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার রাখি। কিন্তু আলমগীর তার এলাকায় কী পরিচয় দেন কিংবা কী করেন সে বিষয়ে আমি অবগত নই।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ধারা ২৯ এর উপধারা ১ ও ২ অনুযায়ী নিবন্ধিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না এবং উল্লেখিত ধারায় কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই ধরণের ভুয়া চিকিৎসক পরিচয় দেওয়ার মানে হচ্ছে ওই ব্যক্তি দেশের আইন এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এই বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তার বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেবে।ৎ

:: সূত্র :: একাত্তর টিভি

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital