শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিকদের পদত্যাগের হিড়িক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ নভেম্বর, ২০২১, ৩:৩৩ পিএম
হাইমচরে প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিকদের পদত্যাগের হিড়িক
হাইমচর প্রতিনিধি : হাইমচরে প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিকদের পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ছত্র ছায়ায় এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের সদস্য করে হাইমচর প্রেসক্লাবকে কলুষিত করায় এমন সিদ্ধান্ত নেন তারা।
৫ নভেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাইমচর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের ব্যুরো ইনচার্জ মোঃ মাজহারুল ইসলাম শফিক, প্রেসক্লাব সদস্য জি এম জহির, জাহাঙ্গীর হোসেন সিকদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জি এম ফজলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাহেদ হোসেন দিপু, প্রচার সম্পাদক হাসান আল মামুন, দপ্তর সম্পাদক শরীফ হোসাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদসহ প্রেসক্লাব থেকে পদত্যাগ করেন।
জানা যায়, ২০১৯ সালের জুন মাসে ২ বছরের জন্য কমিটি হয় হাইমচর প্রেসক্লাবে। এর পর থেকে কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোঃ খুরশিদ আলম প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল ও সংবাদকর্মীদের অপমান, অসম্মান, নির্যাতনের মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে সকলেই তার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে সভাপতি খুরশিদ আলম।
২০২১ সালে কমিটির মেয়াদ উত্তির্ন হওয়ার পরেও সাধারণ সভা কিংবা কমিটি পুনর্ঘটনে তালবাহানা শুরু করলে কার্যকরী কমিটির দায়িত্বশীল ও কর্মরত সাংবাদিকগন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাধারণ সভা আহ্বান করতে বাধ্য করেন। সাধারণ সভার পর থেকে খুরশিদ আলম তার সভাপতি পদ হারানোর অনিশ্চয়তায় নতুন ফরম বিক্রির মাধ্যমে ঠিকাদার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মনগড়া সদস্য করে নিজের দল ভারি করে। গতকাল শুক্রবার নতুন সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে প্রেসক্লাবের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের ডাক দিলে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ পদত্যাগ সহ অব্যহতি নেন।
পরিশেষে হাইমচর প্রেসক্লাবকে সর্বমহলে কলুষিত করে বিতর্কিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির অধিকাংশ দায়িত্বশীল-ই কোনো সংবাদপত্র কিংবা সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত না থাকায় এ কমিটি নিয়েও আলোচনা সমালোচনার ঝড় হাইমচরের সর্বমহলে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’