শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

অবহেলা নয়, যত্নে রাখুন প্রবীণদের

মো. মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:৫৩ পিএম
অবহেলা নয়, যত্নে রাখুন প্রবীণদের
সমাজের প্রায় প্রতিটি সংসারেই থাকে প্রবীণ সদস্য। বয়সের কারণে প্রবীণদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা কমে যায়। তাই এ সময়টায় তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। শিশু থেকে শুরু করে বাড়ির প্রবীণদের বেলায়ও রাখতে হয় বিশেষ সতর্কতা। কেননা অতিরিক্ত ঠান্ডায় তারা অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। শীত ছাড়াও একাকিত্ব মানুষকে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থ করে তোলে। সেই অসুস্থতা রোধ করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে অনেক সময়।
বিশেষ করে প্রবীণদের এ সমস্যাটা বেশি ভোগ করতে হয়। কিছু কিছু নিঃসঙ্গতায় মানুষকে আত্মহত্যার পথও বেছে নিতে হচ্ছে। যার বাস্তব একটি উদাহরণ- গত কয়েক বছর আগে চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর একজন প্রবীণের আত্মহত্যা সমাজকে নাড়া দিয়েছে।
অনেক সংসারে তাদের দেখভাল করার জন্য থাকে না কোন সদস্য। এক সময়ের কর্মপ্রাণ মানুষ বুড়ো হয়ে পড়লে যথাযথ সেবাযত্ন, চিকিৎসা কিংবা ভাল আচরণের অভাবে শারীরিক অসুস্থ ও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এ কারণে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হয় বুড়ো মা কিংবা বাবাকে। আর একজন চলে গেলে আরেকজন দুর্বল হয়ে পড়েন নিঃসঙ্গতায়। মানবজীবন বড় বিচিত্র। এককালের কর্মপ্রাণ ও উপার্জনক্ষম মানুষ সময়ের ব্যবধানে বৃদ্ধ বয়সে হয়ে পড়েন কর্মশক্তিহীন। তাদের এ দুর্বলতায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হতে হয় বহু প্রবীণ সদস্যকে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের জীবনটা নানারূপে বা কালে বিভক্ত।
যেমন- শৈশবকাল, কৈশরকাল, প্রাক-যৌবনকাল, যৌবনকাল এবং প্রৌঢ়ত্ব। প্রৌঢ়ত্বের সীমারেখা পেরিয়ে একজন মানুষ এক সময় বার্ধক্যে উপনীত হন। বার্ধক্যে বা বৃদ্ধাবস্থা মানব জীবনের শেষ পর্যায় বা ধাপ। এদিকে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা প্রবীণদের নিঃসঙ্গতায় ফেলে দিয়েছে। আগে যৌথ পরিবারভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ছিল, এখন তা ভেঙে একক পরিবারভিত্তিক রূপ নিয়েছে। এই একক পরিবারভিত্তিক সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের নীরব শিকার হচ্ছেন প্রবীণ জনগোষ্ঠী। আমাদের প্রবীণরা আজ ভাল নেই। তারা এখন নিজের বাড়িতেই বিভিন্ন নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন। যতদিন যাচ্ছে, ততই প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে। তার সঙ্গে সমাজে প্রবীণদের প্রতি দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের মাত্রাও বেড়ে চলেছে।
এটা এখন একটা বৈশ্বিক সামাজিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে ষাটোর্ধ্বদের প্রবীণ বলা হলেও ২০১৯ সালের পর থেকে ৬৫ উর্ধ্বদের প্রবীণ বলে ঘোষণা করা হয়। দেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী প্রবীণ হলেও তাদের কল্যাণে তেমন কোন সুব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। প্রবীণদের কল্যাণে যেসব অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন যেমন, তাদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, প্রবীণ নিবাস, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ব্যবস্থা, আর্থিক সমর্থন, পুষ্টিকর খাদ্য, ইত্যাদি সরবরাহের ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল।
অধিকাংশ এ দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠী ষাটোর্ধ্ব বয়স থেকে কর্মহীনতা, আর্থিক প্রবঞ্চনা, পুষ্টিহীনতা, নিরাপদ পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পারিবারিক অবহেলা, নিঃসঙ্গতাসহ নানা জটিল অবস্থার ভেতর দিয়ে দিনযাপন করেন। শহরে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের মাঝে এই অবস্থা তেমন একটা পরিলক্ষিত না হলেও নিন্মবিত্ত ও গরিব জনগোষ্ঠীর মাঝে বঞ্চনার এই মাত্রা দৃশ্যমান।
কলামিস্ট ও ফিচার লেখক
চাঁদপুর সদর।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।