বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভায় হট্টগোল, সভা পন্ড!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৪, ১২:০৫ এম
ফরিদগঞ্জে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভায় হট্টগোল, সভা পন্ড!
ফরিদগঞ্জে দাওয়াত পেয়ে উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে উপস্থিত হয়ে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান। এর ছাড়া, হই-হুল্লোড়, বাক-বিতন্ডা ও হুমকি ধমকি, ধাক্কা ধাক্কির মধ্য দিয়ে সভা পন্ড হয়ে গেছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের আক্রমণের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানদের অনিরাপদ রেখে সভাস্থল ত্যাগ করেছেন জেলা প্রশাসক ও নবাগত উপজেলা নির্বাাহী অফিসার। উপস্থিত কয়েকজন বিএনপি’র কর্মী ও সংবাদকর্মীরা তাদেরকে নিরাপদে বাড়ির ফেরার ব্যবস্থা করেন।
চাঁদপুরের নবাগত জেলা প্রশাসকের সামনে মঙ্গলবার(২২ অক্টোবর) বিকালে ওই ঘটনা ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ফরিদগঞ্জে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট অংশি জনের সাথে মত বিনিময় সভার আয়োজন করেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতারা রাজিয়া। এতে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর জেলায় নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন। সভা শুরু হয় বেলা সকাল ১১ ঘটিকা নাগাদ। সভায় আমন্ত্রিত অংশিজন হিসেবে উপস্থিত হন বিভিন্ন বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ১৫ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা এম.এ. হান্নান, সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ, মোতাহার হোসেন পাটয়ারী ও জামায়াতের সাবেক আমির উইনুছ হেলাল। ইউএনও’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরুর পর পর্যায়ক্রমে ব্যবসায়ী, চেয়ারম্যানগণ দলীয় নেতা হারুনুর রশিদ, সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন ও জামায়াত আমির ইউনুছ হেলাল।
শান্তিপূর্ণভাবে সভার শেষের দিকে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন বক্তব্য শুরু করেন। ওই সময় বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল বাঁধে। প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, সভায় আমন্ত্রিত নন এমন কয়েকজন বিএনপি নেতা একে একে প্রায় একই সুরে চিৎকার দিয়ে প্রশ্ন করেন এই সভায় তাদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি, আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ও এতো লোকদের দাওয়াত দিয়েছে কে। এর মধ্য দিয়ে সভায় হই হট্টগোল শুরু হয়। নানাজন বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন। এতে, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য বাধাগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি বক্তব্য বন্ধ করে দেন। নির্বাহী অফিাসর, ওসি হানিফ সরকারসহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাগণ জেলা প্রশাসককে ইউএনও’র কতক্ষে নিয়ে যান। ওই সময়, ভেতরে আটকে পড়েন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যান কাউছারুল আলম কামরুল, শাহ আলম শেখ, হারুনুর রশিদ ও বুলবুল আহমেদ। দলীয় নেতা-কর্মীরা তাদের উদ্দেশ্যে হাঁকডাক দেন, গালমন্দ করেন ও জানালা দিয়ে তাদের দিকে পানির বোতল ছুঁড়ে মারেন ও মারমুখি হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চেয়ারম্যানদের সেখান থেকে কয়েকজন সাংবাদিক ও বিএনপি কর্মীরা তাদেরকে তিন তলায় নিয়ে যান ও নিরাপদে বাড়ি যেতে সাহায্য করেন। পথিমধ্যে ওই চেয়ারম্যানদেরকে লাঠিসোঁটা হাতে ধাওয়া দেওয়া হয়।
৯নং ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,  সিএনজিযোগে বাড়ি যাওয়ার পথে মাজারের সামনে কয়েকজন আমাদের গতিরোধ করেন। তারা আমাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। ওই সময় বাধা দিলে সাথে থাকা শাহ আলম মেম্বারকে কেল ঘুষি মারা হয়। তখন টানাহেঁচড়ায়, সিএনজি’র স্টিলের কয়েকটি স্টিক খুলে যায়। ওই সময় বিএনপি’র কয়েকজন দেখেন ও তাদের হটিয়ে আমাদেরকে বাড়ি যেতে সাহায্য করেন।
এ ব্যপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন বলেন, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার ফরিদগঞ্জে একমাত্র প্রতিনিধি এম.এ. হান্নান দাওয়াতপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি আসতে না পারায় আমি তার প্রতিনিধিত্ব করেছি। দাওয়াত না পেয়ে কিছু সংখ্যক নেতা আপত্তি করেছেন। জেলা প্রশাসক ও ইউএনও বলেছেন সভাটি ছোট পরিসরে আয়োজন ছিল। এ ছাড়া, এখানে আমরা দুজনই নতুন যোগদান করেছি। ভবিষ্যতে খেয়াল থাকবে। মঞ্জিল হোসেন বলেন, এর মধ্যে হট্টগোল বাধলে আমি চলে আসি। কে বা কারা পরে উচ্ছৃংখলতা করেছে আমি জানি না।
সভায় অনেকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক এ.আর.এম. জাহিদ হাসান, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হানিফ সরকার, উপজেলা কৃষি অফিসার কল্লোল কিশোর সরকার, মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক খালেক পাটওয়ারী প্রমুখ।
এ ব্যপারে নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া বলেছেন, বাজার ব্যবস্থাপনা ও দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ছোট পরিসরে সভার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে, নবাগত জেলা প্রশাসকের আগমন ও গুরুত্ব বিবেচনায় সর্ব সাকুল্যে বিএনপি ও জামায়াতের চারজন নেতাকে দাওয়াত করি। কিন্তু, তাদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হয়ে যায়। এ জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। উদ্ভুত ঘটনা বিবেচনায় ভবিষ্যতের জন্য অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হলো।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital