শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্ত্রী ও শশুরকে মারধর, চাঁদপুর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১২ মে, ২০২৫, ১১:২৬ পিএম
স্ত্রী ও শশুরকে মারধর, চাঁদপুর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
চাঁদপুর সদর উপজেলার ২নং আশিকাটি ইউনিয়নে স্ত্রী ও তার শশুরকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে চাঁদপুর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামী রায়হান খান, তার পিতা আব্দুর রাজ্জাক খান এবং শাশুড়ী কামরুন নাহারকে আসামী করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন গৃহবধূ তামান্না মজুমদার।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আশিকাটি ইউনিয়নের উত্তর রালদিয়া খান বাড়ির রাজ্জাক খানের ছেলে রায়হান খানের সাথে ২০১৮ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় হাজীগঞ্জ উপজেলার বেতিয়াপাড়া মজুমদার বাড়ির জয়নাল আবেদীনের মেয়ে তামান্না মজুমদারের। তাদের সংসারে ৫ ও ২ বছরের দুইটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
তাদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন সময় খুটিনাটি বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সেসব বিষয় নিয়ে প্রায় সময় স্ত্রী তামান্না উপর শারীরিক নির্যাতন চালাতো স্বামী রায়হন খান। তার এই নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে তামান্না সহ বাবার পরিবারের লোকজন। স্বামী কর্তৃক ডিভোর্স দেয়ার হুমকি দিয়ে মারধরের পরও তামান্না তাদের দুই অবুঝ সন্তানের কথা চিন্তা করে ধৈর্য্য ধারন করে সংসার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছিলেন।
কিন্তু গত রোববার (১১ মে) দুপুর ২টার দিকে পূর্বের ন্যায় বিভিন্ন অজুহাতে গৃহবধূ তামান্নার উপর অমানবিক নির্যাতন চালায় রায়হান। পরে তামান্না তার পরিবারকে বিষয়টি জানালে তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশকে খবর দিলে এদিন রাত সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ এবং মেয়ের বাবা ঘটনাস্থলে গেলে রায়হান পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ছেলের মায়ের আশ্বাসে পুলিশ চলে যান। পরে রায়হান খান মেয়ের বাবা জয়নাল আবেদীনের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে রায়হান উত্তেজিত হয়ে শশুরের মাথায় আঘাত করেন। এসময় তাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে জয়নাল আবেদীনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তার নাক ও ঠোটে ২১ টি সেলায় দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করেন। এদিকে বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে মেয়ে তামান্না এগিয়ে গেলে তার শশুর আব্দুর রাজ্জাক খান ও শাশুড়ী কামরুন নাহারও কিলঘুষি, লাথি মারেন। এবং তার শশুর তাকে টেনেহিঁচড়ে শ্লীলতাহনিরও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় এদিন রাতেই চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি মামলা রুজু করেন। ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩৫৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলা নং- ২৯।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ তামান্না মজুমদার বলেন, আমার স্বামী প্রায় সময় আমার উপর শারীরিক ও মানষিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। সেই সাথে আমার শশুরও তার ছেলের সাথে তাল মিলিয়ে তিনিও অত্যাচার করেছেন। দুই সন্তানের কথা চিন্তা করে আমি তারপরও চেয়েছি সবকিছু মেনে নিতে। ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে রবিবার দুপুরে আমাকে বেদম মারধর করেন।
মারধরের বিভিন্ন সময় বলেন, আমাদের বাড়ি থেকে তাকে কি দিয়েছে। এমনকি আমার সাথে অল্প কয়েকদিন সংসার করে তালাক দিয়ে দেয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন প্রায় সময়।
তামান্না মজুমদারের ভাই তানজিল মজুমদার বলেন, আমার বোনের উপর তারা অনেক অত্যাচার করেছে। তারপরও আমরা চেয়েছি তাদের সংসারটা না ভাঙ্গুক। কিন্তু এদিন আমার ভগ্নিপতি রায়হানের করা অমানবিক আচরণের মাত্রাটা বেড়ে গিয়েছিল। আমার বাবাকে সে মারাত্মক জখম করেছে, তিনি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসামী রায়হান খানের মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়েও সংযোগ না পাওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাহার মিয়া সোমবার রাতে প্রিয় চাঁদপুরকে জানান, তামান্না মজুমদারের দায়ের করা মামলায় কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘরে তালাবদ্ধ রেখে সবাই পালিয়েছে। তবে আসামীদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital