বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

স্পিড ব্রেকারের দাবীতে কচুয়ায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মো. রাছেল, নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ জুন, ২০২৫, ৮:৫৭ পিএম
স্পিড ব্রেকারের দাবীতে কচুয়ায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন

স্পিড ব্রেকারের নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন।

চাঁদপুরের কচুয়া টু কালিয়াপাড়া সড়কের কড়ইয়া ইউনিয়নের মনোহরপুর তিনআনী বাড়ি সংলগ্ন স্পিড ব্রেকারের নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার  (২০ জুন) বিকালে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী ।
তাদের দাবি সড়কটি সংস্কারের পর যানবাহনের গতি বেড়ে গেছে এবং কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে।  ইতিপূর্বে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় অনেক মানুষ আহত ও গতকাল একই স্থানে এক প্রকৌশলী নিহত হয়েছেন। চাঁদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অতিদ্রুত লিখত আবেদন করবেন।
জানাগেছে, আকিয়ারা, মনোহরপুর ও তফিরা গ্রামে মাদরাসা, হাইস্কুল, প্রাইমারি স্কুলসহ বেশ কয়েকটি  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে কয়েকটি দোকান। স্পিড ব্রেকার না থাকায় প্রতি মাসেই কয়েকটি দূর্ঘটনা ঘটে। ইতোপূর্বে এ সড়ক দূর্ঘটনায় আকিয়া গ্রামের মোঃ আমির হোসেনের ছেলে প্রকৌশলী খায়রুল বাসার নামে ১জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। অনেকে পঙ্গুত্বের জীবন যাপন করছে।
এক শিক্ষার্থী জানান, বাড়ির সামনের সড়কে কোন স্পিড ব্রেকার বা গতি প্রতিরোধক সাইনবোর্ড নির্মাণ বা স্থাপন না করায় ইতোপূর্বে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অনেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা হতাহত হয়েছেন।
মানববন্ধনে স্থানীয় আকিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মোজাম্মেল হক বলেন, এই সড়কটি দিয়ে বেপরোয়া ভাবে যানবাহন চলাচল করে। মনোহরপুর তিনআনি বাড়ি সংলগ্ন সড়কের দক্ষিণ পাশে একটি দোকান থাকায় কিছু দেখতে না পাওয়ায় সড়কে যানবাহন উঠার সময় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
অতি দ্রুত সড়কের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দুটি স্পিড ব্রেকার নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সমাজ সেবক আবু সায়েম, হাফেজ শাহীন, হাফেজ আমিন প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মাসুদ আলম, মোঃ আরিফ হোসেন, মোঃ সোহাগ সহ মনোহরপুর, আকিয়ারা ও তফিরা গ্রামের অধিকাংশ লোকজন।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।