শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মতলব উত্তরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১, ৩:৫৯ পিএম
বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মতলব উত্তরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

মনিরুল ইসলাম মনির : দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও বিকেলে করাকান্দা বহুমুখী বাজারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনার পরিকল্পনাকারীদের নিন্দা জানিয়ে মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের প্রাদদেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়। সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে রবিবার সকালে মানববন্ধন করেছে সচেতন নাগরিক সমাজ।

এ সময় তাঁরা হত্যার নির্দেশদাতা হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ও তার ছেলে শারুন চৌধুরীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। মানববন্ধনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সুলতান মাহমুদ বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী। তাদের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকা পরিচালিত হচ্ছে। আর এ কারণে তাদের সুনামে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি গোষ্ঠী বারবার তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে আসছে। আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।

মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে দাবি জানাচ্ছি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সাহেবকে যারা হত্যার পরিকল্পনা করেছে দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হউক।

Model Hospital

নূরে আলম মুরাদ বলেন, আমরা শুনেছি বসুন্ধরার এমডি সাহেবকে প্রথমে দুধে বিষ মিশিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরবর্তীতে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর হামলার প্রস্তুতি নেয় একটি চক্র। আমরা হত্যার পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

শাহাদাত হোসেন বলেন, আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। কিন্তু আমাদের ব্যবসায়ী সমাজের আইকন হচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাঁকে হুইপ সামশুল ও তার ছেলে শারুন যে হত্যার পরিকল্পনা করেছে আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সাংবাদিক নাঈম মিয়াজী এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে এ ঘটনার পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। বক্তব্য রাখেন সুলতান আহমদ, নুরে আলম, শাহাদাত হোসেন, সেলিম রেজা মহন, রেজাউল, নাঈম সরকার, সোহেল প্রধান, সোহাগ সিকদার প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’