জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৩ জন
শাহরাস্তিতে এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৫৮.৭৮ শতাংশ
শাহরাস্তি উপজেলায় ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার হয়েছে মাত্র ৫৮.৭৮ শতাংশ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলাটির ৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ২৮৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১৬৯৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১১৮০ জন।

গৌরবময় ফলাফলের তালিকায় সর্বমোট ১৩৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু প্রতিষ্ঠান সন্তোষজনক ফলাফল করলেও, অনেক স্কুলের ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক। সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো :নিজমেহার মডেল পাইলট উবি’র ১৮ জন,শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উবি’র ১৭ জন,ওয়ারুক রহমানিয়া উবি’র ১৫ জন।

সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল। তাদের ৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে ৭ জন পেয়েছে জিপিএ-৫,পাশের হার ৮৬.৬৭%। উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ফলাফল করেছে মনিরা আজিম একাডেমি পাশের হার ৮০%, উঘারিয়া ইউনিয়ন কাউন্সিল উবি’র ৭৮.২১%, শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উবি’র ৭৬.৯২%, এবং ফরিদ উদ্দিন উবি’র ৭৬.৬২%।

অন্যদিকে আশঙ্কাজনকভাবে ফলাফলে পিছিয়ে রয়েছে হোসেনপুর বালিকা উবির যেখানে ১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ২৯.৪১%। মেহার উবি’র ১০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৩০.৩৯%, যদিও ৩ জন পেয়েছে জিপিএ-৫।
তুলনামূলক হারে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে দেখা যায়, ওয়ারুক রহমানিয়া উবির ১৮৫-১৩৯ উত্তীর্ণ, ১৫ জন জিপিএ-৫ (৭৫.১৪%)।বেরনাইয়া উবি’র ৬১-৪৫ উত্তীর্ণ (৭৩.৭৭%)। ফটিকখিরা এস এ বালিকা উবি’র ২২-১৬ উত্তীর্ণ (৭২.৭৩%)।উনকিলা উবি’র ১০৮-৭৪ উত্তীর্ণ, ১ জন জিপিএ-৫ (৬৮.৫২%)।চিতোষী আর এম উবি’র ১৫৩-১০৩ উত্তীর্ণ (৬৭.৩২%)।সুচিপাড়া উবি’র ১৪০-৮৯ উত্তীর্ণ, ১০ জন জিপিএ-৫ (৬৩.৫৭)।সুয়াপাড়া জিকে মাধ্যমিক উবি’র ১২৯-৮৩ উত্তীর্ণ, ৫ জন জিপিএ-৫ (৬৪.৮৪%)।নিজমেহার মডেল পাইলট উবি’র ১১৭-৭৬ উত্তীর্ণ, ১৮ জন জিপিএ-৫ (৬৪.৯৬%)।
অপরদিকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায়, শাহরাস্তি উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।
নিজমেহার মডেল পাইলট উঃবিঃ থেকে ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ৯০.৯৮%।ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পাশের হার ৯০.২৪%।এই দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ফলাফল অনুযায়ী মোট পরীক্ষার্থী ৮৩ জন, উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৬ জন এবং অকৃতকার্য ৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আলী আশ্রাফ খান বলেন, “এই বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে পাশের হার কিছুটা কমে গেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বয়ে একসঙ্গে কাজ করলে আরও ভালো ফল সম্ভব হবে।





