শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

হাইমচর চরভৈরবী ওহাবিয়া এতিমখানায় জীবিতদের মৃত দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি অর্থ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৫:৩২ এম
হাইমচর চরভৈরবী ওহাবিয়া এতিমখানায় জীবিতদের মৃত দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি অর্থ
নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর  হাইমচর উপজেলার চরভৈরবীর আমতলীতে ওহাবিয়া এতীম খানার নামে ভুয়া এতিমের  তালিকা তৈরি করে সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর এক গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায় মাওলানা হাফিজুর রহমান চরভৈরবীতে ওহাবিয়া এতিমখানা নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলেন।
লকডাউন এর আগে ও পরে অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হওয়া যায় এই এতিমখানায় নেই সঠিক এতিমের তথ্য। এতিমদের নামে সুকৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করার মানসে শিশুদের জীবিত পিতাকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া এতিমের তালিকা তৈরি।এই তালিকা সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দিয়ে বছরের পর বছর অর্থ লোপাট করে আসছেন মাওলানা নামধারী এই প্রতারক। আরো জানা যায় তারা প্রায় ৭০ জনের ভুয়া একটি মেয়ের তালিকা সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দেন।
সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার ফলে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৩৩ জন এতিমের জন্য মাথাপিছু মাসে ২০০০/=( দুই হাজার)  টাকা করে বরাদ্দ পান ওহাবিয়া এতিমখানা। সেই মোতাবেক তাহলে মাসে  মোট ( ৩৩×২০০০)=
৬৬০০০/=  ছেষট্টি হাজার টাকা আর বছরে  মোট  (৬৬০০০×১২)= ৭৯২০০০ টাকা,  প্রায় সরকারের ৮ লক্ষ টাকার মত লোপাট করেন ঐ জামাত নেতা । এভাবেই পেয়ে আসছেন বছরের পর বছর দেখার যেনো নেই কেউ।
৯ই ফেব্রুয়ারি বিকালে  সরেজমিন দেখা যায় ১৮ জন ছাত্রের মধ্যে মাত্র ৪ জন ছিল সঠিক এতীম বাকি সকলেরই রয়েছে বাবা-মা জীবিত। এলাকাবাসী থেকে  জানা যায় এখানকার বেশিরভাগ শিশুদেরই  বাবা-মা জীবিত। তাদের বাবা মা এসে নিয়মিত সন্তানদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। কিন্তু জামায়াত নেতা সরকারের নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এ হেন ঘৃণ্য কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সবচেয় অবাকের বিষয় হল সরকারি টাকা সুকৌশলে আত্মসাৎ করলেও অফিস কক্ষে নেই জাতির জনকবঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান ও সরকার প্রধানের ছবি। অফিস কক্ষে গিয়ে সরকার প্রধানের ছবি কোথায় জানতে চাইলে  একজন চকির নিচ থেকেই বাহির করে জাতীয় পতাকা। উপস্থিত শিশুদের মুখ দিয়ে বেরোচ্ছে না জাতীয় সংগীতও। এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান সন্ধ্যার পর মাদ্রাসা ও এতীম খানার ভিতরে মাদকসেবীদের আড্ডাখানা বসে।যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় লোকজন জানান হাইমচর উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশই বলে আমরা মনে করি। এসব দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে  মাওলানা হাফিজুর রহমানের বক্তব্য কি জানতে চাইলে তিনি জানান আপনারা আলগী বাজারে এসে উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য আকাশের ওয়ালটন শোরুমে বসেন। আমরা সেখানে গিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে বহু গুণে গুণান্বিত মাওলানা হাফিজুর রহমানের ভাই আকাশ বলেন আমি নিজেও একজন সাংবাদিক। আমি নবগঠিত হাইমচর উপজেলা প্রেসক্লাবের একজন নির্বাহী সদস্য ও চাঁদপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক ও বর্তমান ওনারা আমার মামা
এ বিষয়ে হাইমচর এর সাংবাদিক নেতা ফারুক হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন ব্যাপারটা আমরা ঘুর্নাক্ষরেও জানিনা। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি অন্তত এ অপরাধের সমর্থন করিনা আর সে যেই হোক।
তিনি আরো বলেন আপনারা চমৎকার একটা বিষয় উপস্থাপন করেছেন এ জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।