বাংলাদশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আজম খান।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে ইউনিয়নের ঘোষেরহাট, কুমারডুগী, জাফরবাড়ি, পল্লী বিদ্যুৎ, মান্দারী ও মহামায়া বাজারে এ গণসংযোগ করেন তিনি। এসময় দলীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা সহ বাজারে আগত জনসাধারণের সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ কালে তিনি ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ৩১ দফার বাস্তবায়নের লিফলেট বিতরণ করেন।
গণসংযোগকালে আজম খান বলেন, এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। দল থেকে অনেকেই মনোনয়ন চাইবে, সেটি তার অধিকার। তবে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেবে আমরা সবাই তার জন্য, ধানের শীষের জন্য এবং বিএনপির জন্য কাজ করব। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়া, আমরা কোন নেতা না, আমরা সকলে ধানের কর্মী।
তিনি উক্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ধানের শীষের শ্লোগান দিয়ে রাজপথ সরব করেন এর পরে তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ী, পথচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সালাম পৌঁছে দেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, নেতা না হয়েও জনগণের সেবা করা যায়। আর জনগণের সেবা করতে হলে দলীয় পদ পদবি লাগে না। একজন উদার মনের মানবিক মানুষ হলেই চলে। তার পরেও বলবো আমি বিএনপির ধানের প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে আপনাদের কাছে এসেছি। তাও মাননীয় বেগম খালেদা জিয়া আর তারেক রহমান এর নির্দেশ পালন করতে ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেই আপনাদের হাতে এ দফা তুলে দিলাম।
আগামী নির্বাচনে আপনারা বিএনপির ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। আর মনে রাখবেন আমরা নেতা নই, দলের ডাক পিয়ন। আমাদের কাজ হলো দলের প্রচার করে প্রতিটি মানুষের হাতে প্রতীক তুলে দেওয়া। আমি আসছি আপনাদের সেবা করতে যতদিন বেঁচে থাকবো সেবা করবো ইনশাআল্লাহ।
আজম খান বলেন, আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতি করি। যে আদর্শের দেশপ্রেম এবং গণ মানুষের প্রতি দায়বোধ ছিল। জিয়াউর রহমান বহু দলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। আমরা তার আদর্শ, দেশপ্রেম এবং গণমানুষের ভালোবাসার উপস্থিতি জনাব তারেক রহমানের উপর দেখতে পাই।
জনাব তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী। আগামীর বাংলাদেশ তার হাতেই নিরাপদ। যার ফলে বিএনপির বিকল্প আর কিছু নেই। বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা এদেশের মানুষকে জিম্মি করে উন্নয়নের নামে লুটপাট আর দুর্নীতি করেছে। যার কর্মের ফল হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পলায়ণ হয়েছে বলে আজ মানুষ কথা বলার স্বাধীনতা পেয়েছে।
উক্ত পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নেওয়াজ খান, চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সাহাদাত খান, সাবেক ছাত্রনেতা ও শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এমদাদুল হক মিলন, দক্ষিণ আফ্রিকার যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক আক্তার হোসেন, বিএনপি নেতা মহসিন মোল্লা, কালু ভুইয়া, তুষার খান, তোফাজ্জল খাঁন, কবির হোসেন রনি, অলিউল্লাহ বেপারী, সাজ্জাদুর হক সোহাগ, মিলন হাজী, সাগর হোসেন, জিয়া সাংস্কৃতিক মঞ্চের সভাপতি নয়ন শেখ, কাউছার মাল, মাসুদ মাল সহ শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। পুরো কার্যক্রমে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা কর্মীদের সহযোগিতায় উক্ত পথসভার সমাপনী ঘটে।