শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব উত্তরের মেঘনা নদীতে রাতের বেলায় অবাধে চলছে বালুবাহী বাল্কহেড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৩:১৭ পিএম
মতলব উত্তরের মেঘনা নদীতে রাতের বেলায় অবাধে চলছে বালুবাহী বাল্কহেড

স্টাফ রিপোর্টার : অরক্ষিত হয়ে পড়েছে মতলব উত্তরের মেঘনা নদী। গত কয়েকদিন পূর্বে চাঁদপুর সদর উপজেলার মোমিনপুরে ডাকাতিয়া নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড ও ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনা এমনটিই প্রমাণ করে রাত্রী বেলায় অরক্ষিত মেঘনা। রাতে নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না। কয়েকদিন পূূূর্বের ঘটনা আবারও মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এ দুর্ঘটনায় ৫জন নিহত হন।

এদিকে, মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীবক্ষ হয়ে কয়েক হাজার বাল্কহেড চলাচল করে থাকে। চাঁদপুর জেলা সদরের মেঘনা নদীতে জেলা প্রশাসনের ইজারাকৃত বালু মহাল রয়েছে। বাল্কহেডগুলো ওই সব বালু মহাল থেকে দিন-রাত মিলিয়ে ড্র্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে থাকে। আর সেই বালু বোঝাই বাল্কহেড গুলো মেঘনা নদী হয়ে চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে রয়েছে বালু মহাল। ইজারাদার কাজী মিজানুর রহমান ও সেলিম খানের নেতৃত্বে রাতের বেলায় বাল্কহেড ও বালু কাটা নিষিদ্ধ থাকলেও এসবের তোয়াক্কা না করে অহরহই বালু উত্তোলন করছে নদী থেকে। অনেক সময় বালু মহালের বাইরে থেকেও তারা বালু কাটায় আশপাশের ফসলি জমি ভেঙ্গে চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে।

এ নিয়ে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন করলেও ইজারাদার কাজী মিজান ও সেলিম খান কোন তোয়াক্কা না করে নিয়মিত বালু কেটে চলেছে বালু মহালের বাইরে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলে অধিকাংশ অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজ। আর রাতে যখন মেঘনার বুক থেকে বালু উত্তোলন করা হয়, তখন দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি বাল্কহেডের কারণে নদীপথ ছোট হয়ে যায়। এ সময় বড় বড় লঞ্চ, বিভিন্ন মালবাহী ট্যাঙ্কারগুলো নদীতে চলতে গিয়ে বাধাগ্রস্থ হয়। দ্রুতগতির এ সকল নৌযান হঠাৎ করে ব্রেকও করতে পারে না। ফলে ঘটে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। কিন্তু রাতের বেলায় এ সকল নিষিদ্ধ থাকলেও প্রশাসন এদের সঙ্গে পেরে উঠছে না। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা বালু তুলে নিচ্ছে রাতের বেলায়।

Model Hospital

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন মোহনপুর, এখলাছপুর খেয়াঘাট দিয়ে ট্রলার ও নৌকায় করে হাজারো মানুষ পারাপার হয়। কিন্তু বেপরোয়া ভাবে কার্গো, বাল্কহেড চলাচলের কারণে আতঙ্ক নিয়ে আমাদের খেয়া পারাপার হতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। খেয়া পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় আমরা বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে কোথাও যেতে পারি না।

খেয়া পারাপারকারী নৌকার মাঝি বলেন, নৌ-দুর্ঘটনার জন্য একমাত্র দায়ী বাল্কহেড। বাল্কহেড লোড হয়ে চলাচল করলে পানির সঙ্গে মিশে থাকায় এটাকে দেখা যায় না। এ ছাড়া বাল্কহেড দ্রুতগতিতে চলায় দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। বিশেষ করে রাতে বাল্কহেড চলাচল করলে দেখা যায় না।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক ও বন্দর কর্মকর্তা মো. কায়সারুল ইসলাম বলেন, আইনেই আছে, রাতে বাল্কহেড ও মালবাহী কার্গো চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু মেঘনায় রাতের বেলায় এসব নৌযান চলাচল করছে, এটা সত্য। অধিক মুনাফার লোভে মালিকেরা রাতে শ্রমিকদের নৌযান চলাচলে বাধ্য করছেন।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর নৌ পুলিশের এসপি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, মেঘনা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড সন্ধ্যার পরে চলাচল নিষিদ্ধ কিন্তু আমাদের চোখ কে ফাঁকি দিয়ে কিছু চলাচল করে থাকে। তবুও আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। মেঘনা নদীতে কাজী মতিন এসব বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজি করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এই বিষয়টা বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে আমি ও শুনেছি। তারা নাকি বালুবাহী বাল্কহেডে টোকেন প্রদান করে থাকে। আমি মোহনপুর পুলিশ ফাঁড়িকে বলেছি এগুলো যাতে দ্রুত বন্ধ করা হয়। আমরা এগুলো বন্ধ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করতেছি।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দাউদ হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন- বিষয়টি দেখছি। মেঘনা নদীকে সুরক্ষিত রাখতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।