শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

তদন্ত কমিটি আমার কাছে আসেনি, বক্তব্যও নেননি অভিযোগ তামান্নার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৩:০৬ পিএম
তদন্ত কমিটি আমার কাছে আসেনি, বক্তব্যও নেননি অভিযোগ তামান্নার

মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পালস্ এইড জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগষ্টিক সেন্টারে সিজারিয়ানের টাকা পরিশোধের চাপেই নবজাতক বিক্রি করেন মা তামান্না বেগম। এমনটাই অভিযোগ করেন তিনি।

১৩ ফেব্রুয়ারী রবিবার সকালে নবজাতক আব্রাহার মা তামান্না বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি আমার কাছে আসেনি, আমার বক্তব্যও নেয়নি। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলছে আমি নাকি মানষিকভাবে বিপর্য়য় ছিলাম। আসলে আমি কখনোই মানসিক ভাবে বিপর্যয় হয়ে পরিনি। টাকা পরিশোধ করতে না পাড়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে চাপ প্রয়োগ করেছে। এমনকি টাকা পরিশোধ না করায় আমাকে রিলিজ পর্যন্ত করা হয়নি। কোন উপায় না পেয়েই আমি নবজাতককে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেই।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হাসিবুল ইসলাম, সদস্য ডা. জয়নাল আবেদিন ও ডা. মাজাহারুল ইসলাম ৮ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিকট তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পারিবারিক সমস্যা ও অর্থনৈতিক টানাপড়েনের কারণে নবজাতক বিক্রি করেছিলেন তামান্না বেগম। হাসপাতালের বিল পরিশোধের সত্যতা পাননি তারা। পালস এইড জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এতো সম্পৃক্ততা ছিল না।

Model Hospital

তদন্ত কমিটির এই রিপোর্ট জানার পর তামান্না বেগম বলেন, কেউ নিজের সন্তান অল্প দুঃখে বিক্রি করতে চায়না। পাইলস এইড হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ আমাকে বিল পরিশোধ করার জন্য অনেক চাপ দিয়েছে। আমার কাছ থেকে ১টি টাকাও কম রাখেনি, রিলিজও করেনি। তাই বাধ্য হয়েছি সন্তান বিক্রির জন্য।

জানা যায়, রিলিজের সময় হাসপাতালে বিল আসে ২৬ হাজার টাকা। ওই টাকা পরিশোধ করতে না পাড়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এ অবস্থায় ছেংগারচর বাজারের কাউসার নামে এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় ওই সন্তানকে বিক্রি করে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন তামান্না।

এবিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ডা. হাসিবুল ইসলামকে ফোন দিলে তা রিসিভ করেননি।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (দায়িত্ব) ডা. নুসরাত জাহান মিথেন বলেন, আমি কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে নবজাতক বিক্রির সাথে পালস এইড হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার জড়িত ছিলনা। এমনটাই উঠেছে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে।

৪ ফেব্রুয়ারি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হেদায়েত উল্লাহ ও স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় মতলব উত্তরের ষাটনল এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। ফিরিয়ে দেওয়া হয় মায়ের কোলে।

উল্লেখ্য, উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় গ্রামের দিনমজুর মো. আলমের স্ত্রী তামান্না বেগমের (২৮) প্রসব বেদনা উঠলে তিনি গত ২৬ জানুয়ারি ছেংগারচর পালস্ এইড হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পুত্রসন্তান জন্ম দেন । ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি থাকেন তিনি।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।