শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউনিয়ন নির্বাচনে ভোটের অধিকার হরণের চেষ্টা করা হলে জনগণ রুখে দিবে : জয়নাল আবদিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১, ১:১৩ পিএম
ইউনিয়ন নির্বাচনে ভোটের অধিকার হরণের চেষ্টা করা হলে জনগণ রুখে দিবে : জয়নাল আবদিন
 আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর, পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত চাঁদপুর সদর উপজেলার ১নং বিষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ অজিউল্যাহ সরকার-এর হাতপাখা প্রতীকের সমর্থনে নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি শেখ মুহা. জয়নাল আবদিন ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আগামী ১১ নভেম্বর’২১ সারাদেশে সর্ববৃহৎ পরিসরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে উৎসাহ উদ্দীপনার পরিবর্তে চরম হতাশা বিরাজমান। নির্বাচনী মাঠে  সকল ভোটারদের আশঙ্কা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারব কিনা!
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। জনগণের পক্ষে জনঅধিকার রক্ষার প্রয়োজনে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোটের দাওয়াত নিয়ে ছুটছে প্রার্থীগণ। জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবে, খোলা মাঠে গোল দিবে তার সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রত্যেক ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের অনেক নেতাকর্মী এবং প্রার্থীদের উপর হয়রানি, নির্যাতন, নিপীড়নও চালিয়েছে। আমরা বিচলিত নই। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এবং নেতাকর্মীরা কারো হুমকি, ধমকিতে মাঠ ছাড়েনি এবং নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবে ইনশাআল্লাহ। ভোটের অধিকার হরনের চেষ্টা করলে জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের প্রতিহত করা হবে।
তিনি আরো বলেন, সুষ্ঠু, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে আমরা সাদরে গ্রহণ করবো কিন্তু অবৈধ কোন পন্থা অবলম্বন করে কেউ নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করলে তা কখনই মেনে নেয়া হবে না।
উক্ত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলার অর্থ সম্পাদক ও চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে হাতপাখার মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব মামুনুর রশীদ বেলাল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোশাররফ হোসেন, সদর উপজেলা সহ-সভাপতি আবুল হাসানাত ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’