বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে গুলিবিদ্ধ নাহিদ মামলার আসামী গ্রেফতার

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:২১ পিএম
মতলব উত্তরে গুলিবিদ্ধ নাহিদ মামলার আসামী গ্রেফতার
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তরে ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী মোঃ নাহিদ গাজী (৩৫) কে ঢাকা বাড্ডা থানা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেফতারকৃত আসামীকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। বিষয়টা নিশ্চিত করেন মতলব উত্তর থানার ওসি মোঃ রবিউল হক
গ্রেফতারকৃত নাহিদ গাজী চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের মোঃ হান্নান গাজীর ছেলে।
নিহত মিজানুর রহমান অভিযান মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের পশ্চিম এখলাছপুর মিজি বাড়ির ফয়েজ উল্ল্যাহর ছেলে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, নিহত মিজানুর রহমান অভিযান পেশায় একজন অটোরিক্সা চালক। ২৫ বছর পূর্বে নদীতে বাড়ি ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে বর্তমানে তারা নারায়নগঞ্জে ভাড়াবাসায় বসবাস করতো। পৈত্রিক ও নানার বাড়ি এখলাছপুর হওয়ায় সে মাঝে মাঝে বেড়াতে আসতো।
আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মতলব উত্তর উপজেলার হাশিমপুর গ্রামের মিন্টুর দোকানের সামনে ২০২৫ সালের ১৩ আগষ্ট দিনগত রাত ১ টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে যে কোন সময় মোঃ মিজানুর রহমান অভিযানকে মারধর ও মাথায় গুলি করে কে বা কাহারা হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে সকালে স্থানীয়রা পুলিশ বিষয়টি অবগত করলে মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ওইদিনই মতলব উত্তর থানায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা
একটি মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার। মামলা নং-৪৫। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান মতলব উত্তর থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) দেলওয়ার হোসেন। ৮ অক্টোবর বুধবার রাতে চাঁদপুর মতলব উত্তর থানার ওসি রবিউল হকের নির্দেশে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই দেলওয়ার হোসেনসহ সংঙ্গীয় সদস্যরা ঢাকার বাড্ডা থানা থেকে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন।
এসআই দেলওয়ার হোসেন জানান, এটি একটি ক্লু-লেস হত্যাকান্ড। হত্যাকান্ডের পরে গ্রেফতারকৃত নাহিদ তার ছোট ভাই নাজমুলের মোবাইল ফোন দিয়ে নূরু খালাসী নামের এক ব্যক্তিকে ফোন দিয়ে বলে অভিযান কে মেরে ফেলছি এবার তোর পাল্লা। এই সূত্রধরেই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়। দীর্ঘ কয়েকবার চেষ্টার পর অবশেষে নাহিদকে গ্রেফতার করা হয়।
মতলব উত্তর থানার ওসি রবিউল হক জানান, নাহিদকে বুধবার ঢাকা বাড্ডা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।