বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া স্মরণে প্যাপিরাস পাঠাগারে আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৪২ পিএম
নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া স্মরণে প্যাপিরাস পাঠাগারে আলোচনা সভা
নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া স্মরণে সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে প্যাপিরাস পাঠাগার।
শনিবার ৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডস্থ চাঁদ টাওয়ারে অবস্থিত প্যাপিরাস পাঠাগার কার্যালয়ে এ আড্ডার আয়োজন করা হয়।
পাঠাগারের প্রধান পরিচালক মিজানুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে বাঙালি চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক ও মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার ‘জীবন ও সাহিত্য’ সম্পর্কে আলোচনা করেন, পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি, উপদেষ্টা দিলীপ ঘোষ, মোহাম্মদ শাহ আলম, রেলওয়ে কিন্ডারগার্টের অধ্যক্ষ মাহমুদা খানম, ইনার হুইল ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিতু আক্তার, ভাসানী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংঘের কর্ণধার সাইফুল ইসলাম রাজিব, স্কুল শিক্ষক সিত্তূল মুনা চৈতী, সাহিত্যানুরাগী ঝরনা আক্তার, ফারজানা ও সাংবাদিক জামাল আখন্দ।
পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি বলেন, বেগম রোকেয়া নারী সমাজকে জাগ্রত করেছেন। শুধুমাত্র ঘর গোছানোর দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীরা যে সমান অবদান রাখতে পারে সে বিষয়ে পিছিয়ে পড়া নারী সমাজকে তিনি জাগিয়ে তুলেছেন। একটু দেরিতে হলেও তার সাহিত্য এবং সংগ্রাম সফলতার মুখ দেখেছে। নারীরা এখন সকল দিকেই নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়া পুরুষদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। তিনি অবস্থান নিয়েছেন পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থার কুসংস্কার ও অসঙ্গতিসমূহের বিরুদ্ধে। তার অগ্রযাত্রার পেছনে পুরষদের অবদান ছিলো সবচেয়ে বেশি। তার স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং কুসংস্কারমুক্ত ও প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ব্যক্তি। উদার ও মুক্তমনের অধিকারী স্বামীর উৎসাহ এবং সহযোগিতায় বেগম রোকেয়া ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছিলেন। ভাইয়েরা তাকে পড়াশোনার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
সভাপ্রধান মিজানুর রহমান স্বপন বলেন, বেগম রোকেয়ার হাত ধরে নারী উন্নয়নের যে আন্দোলন সূচনা হয়েছিলো তার সুফল এখনকার নারীরা ভোগ করছে। তার আন্দোলন সংগ্রামের পথটুকু পুষ্পসজ্জিত ছিলো না।
তিনি অনেক লড়াই সংগ্রাম করে নারীদেরকে গৃহকোণ থেকে বাইরে এনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। বেগম রোকেয়ার নামে এখন বিশ^বিদ্যালয় চালু হয়েছে। যে আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে সে আবু সাঈদ ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
অনুষ্ঠানে মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার ‘জীবন ও সাহিত্য’ সম্পর্কে প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন বক্তারা। সব শেষে চা-চক্রের আয়োজন করা হয়। পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করতে অনুষ্ঠানের পর ইনার হুইল ক্লাবের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বই উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় ।
উল্লেখ্য, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ওরূপে বেগম রোকেয়া ৯ ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন রংপুরে। তিনি বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী লেখক। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে বিবিসি বাংলার ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ জরিপে ৬ষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম রোকেয়া।
ছোটগল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ও শ্লেষাত্মক রচনায় রোকেয়ার স্টাইল ছিল স্বকীয় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। উদ্ভাবনা, যুক্তিবাদিতা এবং কৌতুকপ্রিয়তা তার রচনার সহজাত বৈশিষ্ট্য। রোকেয়ার কর্ম ও আদর্শ উদযাপন লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস উদযাপন করে এবং বিশিষ্ট নারীদের অনন্য অর্জনের জন্য বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করে।
৯ ডিসেম্বর ১৯৩২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।