রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শিক্ষককে শোকজ, তদন্ত শুরু

ফরিদগঞ্জে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক উধাও

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:১৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক উধাও
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে সহকারী এক শিক্ষক উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি উপজেলার লক্ষীপুর কাশেমিয়া আলিম মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন তালহা খান। তিনি ওই মাদ্রাসায় আরবি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পর তাঁকে শোকজ করা হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মাদ্রাসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজীগঞ্জ উপজেলার রবিদাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা তালহা খান ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে লক্ষীপুর কাশেমিয়া আলিম মাদ্রাসায় যোগ দেন।
তিনি বিবাহিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সঙ্গে মাদ্রাসার নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি অন্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের নজরে এলে গত রোববার (৭ ডিসেম্বর) ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে লক্ষীপুর কাশেমিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল খায়ের মো. রুহুল আমিন বলেন, “ঘটনার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ডাকযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একজন বিবাহিত শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাউছুল আজম বলেন, “মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের শোকজের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিভাবকেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।