শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সাফল্যের পথে হেটে চলা স্বপ্নবাজ নির্মাতা সাংবাদিক সাইদ হােসেন অপু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ২:২২ পিএম
সাফল্যের পথে হেটে চলা স্বপ্নবাজ নির্মাতা সাংবাদিক সাইদ হােসেন অপু
নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুরের উদীয়মান সাংস্কৃতিক কর্মী সাইদ হােসেন অপু চৌধুরী একজন সাংবাদিক ও চিত্র নির্মাতা। সে স্বপ্ন দেখে এবং সেটি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে ঘামঝরানাে পরিশ্রম করে।

কথায় আছে ‘পরিশ্রম হলাে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং সঠিক পরিশ্রম থাকলেই যে কোনাে কঠিনকে জয় করা যায় সহজেই। তিনি গত বছরে চাঁদপুরের অপু মিডিয়া জোন ইউটিউব চ্যানেলের ব্যবস্থাপনায় দুই শতাধিক পথশিশুদের নিয়ে ২ টাকায় পেট ভরে খাই ও শিক্ষা উপকরন বিতরনের একটি ব্যতিক্রম অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। যা মিডিয়াতে খুব প্রশংসা অর্জন করেন।

চাঁদপুরের স্বপ্নবাজ তরুণ চিত্র নির্মাতা সাইদ হােসেন অপু চৌধুরীও তাঁর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে হেঁটে চলছেন সাফল্যের পথধরে। উদীয়মান এই সাংস্কৃতি কর্মী মিডিয়া পাড়ায় পা রাখা সেই ২০০৮ সালে। তাঁরপর নিজের প্রতিষ্ঠিত অপু মিডিয়া জোন এর ব্যানারে এ পর্যন্ত নির্মাণ করেছেন একে একে অর্ধ শতাধিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র, শর্টফিল্ম ও গ্রামীন কিচ্ছা। এসব স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্রে কাজ করেছেন উদিয়মান নতুন মুখ থেকে দেশের জনপ্রিয় অভিনেতারা। তাঁর বেশকিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও গ্রামীণ কিচ্ছা ইতিমধ্যে মিলিয়ন ভিউ অতিক্রম করে অভাবনীয় জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

Model Hospital

তিনি মূলত সমাজ সচেতনতামূলত গল্প নিয়ে কাজ করেন। পাশাপাশি রােমান্টিক এবং কমেডি ধর্মী গল্প নিয়েও বেশ কিছু কাজ করেছেন। এসব চলচ্চিত্রগুলাের চিত্র ধারণ করা হয় ঢাকা, চাঁদপুর, শেরপুর এবং পুবাইলসহ বিভিন্ন জেলায়। তাঁর রয়েছে দক্ষ একটি শুটিং টিম।

সাইদ হােসেন অপু চৌধুরী প্রযােজিত এবং পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বা শর্টফিল্মগুলাের মধ্যে উল্লেখযােগ্য হলাে, মা আমার মা’। এরপর এক পৃথিবীর প্রেম, ভালােবাসার ছোঁয়া, ফিরে তাকাই, পারফিউম, দূরন্ত প্রেম, অপূর্ণ ভালবাসা, মাইনকা চোরা, জোর করে ধর্ষণ, দেবর ভাবীর পরকীয়া, মায়ের বুকে চাপা কান্না, পােঁচ পাস ম্যাডাম, মহাব্যাস্ত, অবহেলিত হিজড়া, স্বামী বিদেশ, বিবেক, বিয়ে পাগল, বাবার কষ্ট, চোর প্রেমিক, জেদী পােলা, ডিগ্রি ডাক্তার, গরিবের রােজা, বেয়াদপ জামাই, কষ্টে ভরা ঈদ, কিপ্টা বাবা, স্বপ্ন পূরণ, ডিজে পােলা, ইসলামের দাওয়াত, গল্পটি ঈদের নয়, অভিশপ্ত কিস্তি, প্রবাসী বউয়ের কষ্ট।

গ্রামীণ কিচ্ছার মধ্যে পিতা-মাতার ভালোবাসা, মর্ডান বউয়ের পরিণতি, ভাবি দেবরের প্রেমে দিওয়ানা, ভাই বোনের বিয়ে, প্রেমিকার কবরে হাসির শব্দ, পরীর সংসার, বউ কেন জুয়ার আসরে, বেয়াদব বউ, সুন্দরী পাগলী খুন, প্রবাসী বউয়ের পরকীয়া, প্রেমের নামে প্রতারণা, অবাধ্য ছেলের পরিনাম, সতী নারীর সংসার, সুন্দরী হিজড়া গর্ভবতী, শ্বাশুরির অত্যাচারে বউয়ের মরন, মাদকের নেশায় বাবাকে হত্যা এবং পঙ্গু স্বামীর সুন্দরী বউ।

এই গল্পগুলােতে অভিনয় করেছেন, জনপ্রিয় অভিনেতা সংশােধন চলচ্চিত্র নির্মাতা রাসেল মিয়া, চলচ্চিত্র অভিনেতা বরিশালের বাদল শিকদার, টিভি ও নাট্য অভিনেত্রী নিঝুম খান সৈয়দা নাসরিন এবং হাঁসিমুন।
প্রায় সকল চলচ্চিত্রগুলাে তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল অপু মিডিয়া জোনে রিলিজ দেয়া হয়।

সাইদ হােসেন অপু চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, সামনে বেশকিছু নতুন গল্প নিয়ে কাজ করছেন তিনি। আগামী মাসের শুরুতে শুটিংয়ের কাজ শুরু করবেন। এতে মিডিয়া পাড়ায় আলােচিত অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা কাজ করবেন।

তিনি আরও জানান, আমাকে এই কাজগুলােতে সহযােগিতা করেছেন বিভিন্ন জেলার স্ক্রিপ্ট রাইটার, শীল্পী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক এবং শুভানুধ্যায়ীরা। সবাই আমাকে বিভিন্ন পরামর্শ এবং অর্থনৈতিকভাবেও সহযােগিতা করেছেন। আমার এই নির্মাণ কাজে যারা সহযােগিতা করেছেন তাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তার প্রতিষ্ঠান অপু মিডিয়া জোনে একাধিক নতুন অভিনেতা- অভিনেত্রীদের সুযোগ দিয়েছেন। আগামীতে মানসম্মত সামাজিক ও শিক্ষামূলক ভালাে কাজের মাধ্যমে মিডিয়া পাড়ায় স্থান করে নিতে চান তিনি। এজন্যে তিনি সবার সহযােগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, তরুণ নির্মাতা সাইদ হােসেন অপু চৌধুরী সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চাঁদপুরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনি জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশের আলোর চাঁদপুর প্রতিনিধি, দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রিয় চাঁদপুর, প্রিয় সময় এবং গ্রীন বাংলা নিউজের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিক সংগঠন চাঁদপুর জেলা ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক, সুপার স্টার ডি এ তায়েব অফিশিয়াল ফ্যান ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক, স্পর্শ রক্তদান চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা, চাঁদপুর মেঘনা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক, ঝিলমিল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্রযােজনা এবং পরিচালনার পাশাপাশি নিজেও অভিনয় করে থাকেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’