বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্ষমতায় এলে নারীদের অধিকার নিশ্চিত হবে : হাত পাখার প্রার্থী জয়নাল আবেদীন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৪ পিএম
ক্ষমতায় এলে নারীদের অধিকার নিশ্চিত হবে : হাত পাখার প্রার্থী জয়নাল আবেদীন
চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন দিনব্যাপী ব্যাপক নির্বাচনী গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভা করেছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি ) তিনি সকাল থেকে রামপুর ইউনিয়নের ছোট সুন্দর বাজার, কামরাঙ্গা বাজার, মনিহার, এবং বিকেলে শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের শাহতলী, মোল্লার বাজার, মহামায়া বাজার দিনব্যাপী হাতপাখা মার্কার ব্যাপক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভা করেন।
উঠান বৈঠকে মা বোনদের উদ্দেশ্য করে শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন বলেন,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে নারীদের অধিকার নিশ্চিত হবে। তাদের চলাফেরা ও কর্মস্থলে পূর্ণ নিরাপত্তা পাবে।ছাত্রীরা নির্ভয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারবে।
পথসভায় তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ভোট হচ্ছে পবিত্র আমানত, আপনাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে কাউকে সংসদে প্রেরণ করলে সে যদি কোরআন হাদিস বিরোধী আইন পাস করে তার গুনাহর ভাগ আপনারও নিতে হবে। অতীতে এটাই ঘটে এসেছে। এজন্য ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যার মধ্যে আল্লাহর ভয় আছে, ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করবে তাকেই আপনারা ভোট দিবেন।
তিনি বলেন এতটুকু অন্তত পক্ষে নিশ্চিত হতে পারেন, ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় গেলে চুরি, ডাকাতি ও দুর্নীতি হবে না। ইনসাফ ভিত্তিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। মা বোনরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সাথে বসবাস করতে পারবে।
উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারী শাহজামাল গাজী সোহাগ, সাবেক সহ-সাং সম্পাদক আমির হোসেন বিন নূরী, ইসলামী আন্দোলন কাতার শাখার ছাত্র যুব সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, ইসলামী আন্দোলনের চাঁদপুর সদর উপজেলা সেক্রেটারী মজিবুর রহমান, জেলা যুব আন্দোলন সভাপতি মাওলানা ইমরান মিয়া, জেলা শ্রমিক আন্দোলন সাধারণ সম্পাদক মুহিব্বুল্লাহ বেপারী, জেলা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ডিএম ফয়সাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোতালেব, সদর উপজেলা ছাত্রনেতা আহমদ শফি, ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি কাউসার আহমদ, সেক্রেটারী মাস্টার দেলোয়ার হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ফরহাদ হোসেন।
এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন ও সহযোগী সংগঠনের ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কমিটির দায়িত্বশীলবৃন্দ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।