রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চিংড়ি প্রতীকের সমর্থনে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকায় জনসভা

‘ফরিদগঞ্জের মানুষ জেগেছে, অধিকার আদায়ে লড়াইয়ে নেমেছে’ : এম এ হান্নান

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম
‘ফরিদগঞ্জের মানুষ জেগেছে, অধিকার আদায়ে লড়াইয়ে নেমেছে’ : এম এ হান্নান

ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে জনসভায় বক্তব্য রাখছেন চিংড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব এম এ হান্নান।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ এম এ হান্নান বলেছেন, ফরিদগঞ্জের মানুষ এবার জেগে উঠেছে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে লড়াইয়ে নেমেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এম এ হান্নান বলেন, ভোট জনগণের পবিত্র আমানত—কেউ যেন তা খেয়ানত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, হাতে থাকা কয়েকটি দিন ঘরে ঘরে গিয়ে চিংড়ি প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে হবে। “যত ঝড়ঝাপটাই আসুক, আমরা কোনোভাবেই পিছু হটব না,” যোগ করেন তিনি।
তিনি প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা কোনো সহিংসতা বা হানাহানি চাই না।” একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীদের হুমকি-ধমকির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কোনো চাপেই তারা পিছিয়ে যাবেন না এবং জয় নিয়েই ঘরে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জিল হোসেন। আরও বক্তব্য দেন চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সফিউল আলম মুকুল পাটওয়ারী, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আমানত গাজী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান মফু, নজরুল ইসলাম পাটওয়ারী,  জাকির হোসেন পাটওয়ারী, পৌর বিএনপি নেতা জামাল হোসেন, শাহাবুদ্দিন বাবুল,  এবং সাবেক প্যানেল মেয়র জাকির গাজী, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন শিপন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ইমাম হোসেন পাটওয়ারী প্রমূখ।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।