রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের গুপ্তি পূর্ব ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ

ধানের শীষে ভোট দিলেই সুবিধা বাস্তবায়ন সম্ভব : সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম
ধানের শীষে ভোট দিলেই সুবিধা বাস্তবায়ন সম্ভব : সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা

চাঁদপুর-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী পক্ষে গণসংযোগ করছেন সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা।

চাঁদপুর–৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদের পক্ষে গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ববিষয়ক সম্পাদক ও আসনের বর্তমান বিএনপি প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) ইউনিয়নের আষ্টাসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় দিনব্যাপী গণসংযোগ শেষে পথসভায় বক্তারা ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। গণসংযোগকালে নেতারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পথসভায় বক্তব্যে সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ নানা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে নিরাপত্তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণ আবারও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ধারা ফিরে পেতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদারের মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য রয়েছে বিএনপির। “মানুষ যেন দান–খয়রাতের ওপর নির্ভর না করে নিজের আয়ে সম্মানজনক জীবন যাপন করতে পারে—এই লক্ষ্য নিয়েই কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে,” যোগ করেন তিনি।
বিএনপি প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান অঙ্গীকার। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতীক একটাই—ধানের শীষ। এই প্রতীককে বিজয়ী করতে পারলেই ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।”
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
গণসংযোগে ইউনিয়ন ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হয়।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।