রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৪ পিএম
কচুয়ায় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ

কচুয়ায় কাদলা ইউনিয়নে মনপুরা ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা ব্যানার ছেড়ে ফেলার অভিযোগ।কচুয়ায় কাদলা ইউনিয়নে মনপুরা ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ।

আসন্ন ত্রাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ কচুয়া আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড.আনম এহছানুল হক মিলনের নির্বাচনী প্রচারণা ব্যানার ছেড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে । শনিবারে দিবাগত রাতে উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের ৭ ওয়ার্ড মনপুরা ধানের শীষে প্রার্থীর নির্বাচনী পরিচালনায় প্রধান কার্যালয় ও উত্তর পশ্চিম মনপুরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে ব্যানার ছেড়ে অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে যায়।
এছাড়াও এছাড়া একই দিনে উপজেলার কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের তেতৈয়া ও পাথৈর ইউনিয়নে ধানের শীর্ষের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা ব্যানার ছেড়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানান, রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা এসব ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, এ ধরনের ঘটনায় নির্বাচনী পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রচারে বিশ্বাসী হলেও এভাবে বাধা অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ।
তারা আরো জানান,দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা দরকার।
নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এসব কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে।
ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কলিমুল্লাহ ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আফসার দিপু বলেন,একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য রাতের অন্ধকারে একটি গুপ্ত চক্র নির্বাচনী ব্যানার ছেড়ে ফেলেছে এবং প্রচারণার কার্যালয়ে হামলা করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সাধারণ ভোটাররা জানান, নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।‌ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদেরকে সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন ।
সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, আমি ছবি পেয়েছি, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।