শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পরিত্যক্ত ভবনে বাঁধা হচ্ছে গরু,ছাগল; কচুয়ায় কৃষি উন্নয়ন সেবা কেন্দ্রের বেহাল দশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২, ১০:৪১ এম
পরিত্যক্ত ভবনে বাঁধা হচ্ছে গরু,ছাগল; কচুয়ায় কৃষি উন্নয়ন সেবা কেন্দ্রের বেহাল দশা

মো: রাছেল : ১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে পাকিস্তান আমলে কৃষি বিভাগ কর্তৃক কচুয়ার ১২টি ইউনিয়নে নির্মিত কৃষি উন্নয়ন সেবা কেন্দ্রের বেহাল দশা বিরাজ করছে। প্রায় সব ক’টি কেন্দ্রের ভবন সমূহের ছাদ ও দেওয়াল উভয়ই ধ্বসে পড়ছে। ২/৩ টির ছাদ ও দেওয়াল থাকলে ও এগুলোতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। রডে ধরছে মরিচা, দরজা-জানালা ভাংচুর। ভাংচুর এসব দরজা-জানালা ও মরিচা ধরা রড রাতের অন্ধকারে খুলে নিয়ে যাচ্ছে লোকজনরা।একই ভাবে লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে ধ্বসে পড়া দেওয়ালের ইট ও ভেঙ্গে পড়া ছাদের খন্ডাংশ।

কৃষি অধিদপ্তরের কিছু অর্থ বরাদ্দে ১৯৯৭-১৯৯৮ সালে গোহট উত্তর ইউনিয়নের তালতলি গ্রামে নির্মিত উন্নয়ন সেবা কেন্দ্রে ভবনের পুন: নির্মাণ করা হয়। পুন: নির্মাণকৃত এ কেন্দ্রের ভবনেরও এখন ভগ্নদশা। সম্প্রতি কে বা কারা এ কেন্দ্রের ভবনের দরজা-জানালা ও জানালার রড খুলে নিয়ে যায় রাতের অন্ধকারে । এব্যাপারে কচুয়া উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। সকল কেন্দ্রের সবক’টি ভবন সম্পূর্ন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পরিত্যক্ত এসব ভবনে বাঁধা হচ্ছে গরু, ছাগল। সংরক্ষণ করা হচ্ছে জ¦ালানি সামগ্রী পাতা, খড়-কুটা, টুকরা কাঠ ও বস্তা ভরা চাউলের কুড়া ইত্যাদি।

এসব কৃষি উন্নয়ন সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে তৎকালীন সময়ের বিত্তশালী ব্যক্তিরা ৫ থেকে ১০ শতাংশ ভূমি ছাফ-কবলা দলিল মুলে দান করেন। বছরের পর বছর কেন্দ্র গুলো ব্যবহার না করায় কেন্দ্র ভবনের চারপাশের জায়গা স্থানীয়রা ভোগ দখল করে নিচ্ছে। কোন কোন কেন্দ্রের দানকৃত সম্পত্তি স্থানীয়রা তাদের নিজ খতিয়ানভুক্ত করে নেওয়ার ও অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোফায়েল হোসেন উন্নয়ন সেবা কেন্দ্র গুলোর বেহাল দশার সত্যাতা স্বীক্ষার করে বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রের জমি দানের দলিল আমার কার্যালয়ে আছে। বাকিগুলো দলিল শিগগিরই সংগ্রহ করে প্রত্যেকটি কেন্দ্রের দান করা সম্পত্তির সীমানা চিহ্নিত করে ঘেরবেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া জরাজীর্ণ ভবন সমূহের পুন: নির্মাণ করার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করা হবে।

Model Hospital

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’